ঢাকা শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নেপথ্যে যে কড়াকড়ি নীতি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:২২ দুপুর

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে যারা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তা ও কল্যাণমূলক কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন, তাদের অভিবাসন সীমিত করা। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে নেওয়া এই নীতি আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী পুনর্মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি অনির্দিষ্টকাল বহাল থাকবে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকলিপির তথ্য উদ্ধৃত করে মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজ জানিয়েছে, কনসুলার কর্মকর্তাদের বর্তমান আইন অনুযায়ী ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই পদ্ধতি নতুন করে পর্যালোচনা না হওয়া পর্যন্ত এই কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে।

এই তালিকায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সোমালিয়া, রাশিয়া, আফগানিস্তান, ব্রাজিল, ইরান, ইরাক, মিসর, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড ও ইয়েমেনসহ আরও বহু দেশ। বিশেষ করে সোমালিয়াকে বাড়তি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সহায়তা কর্মসূচির বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর দেশটির নাগরিকদের বিষয়ে ফেডারেল কর্মকর্তারা অধিক সতর্ক হয়েছেন। তদন্তে দেখা গেছে, এসব ঘটনায় জড়িতদের একটি বড় অংশ ছিল সোমালি নাগরিক বা সোমালি-আমেরিকান।

এর পাশাপাশি ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির প্রয়োগ আরও কঠোর করা হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বিশ্বজুড়ে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়, যেসব আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করতে পারেন, তাদের ভিসা আবেদন বাতিল করতে হবে। আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান, আর্থিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার সম্ভাবনা—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, অতিরিক্ত বয়স, অতিরিক্ত ওজন, পূর্বে সরকারি নগদ সহায়তা গ্রহণ বা সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসের রেকর্ড থাকলেও আবেদন প্রত্যাখ্যান হতে পারে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, যারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আর্থিক বোঝা হয়ে উঠতে পারেন এবং মার্কিন জনগণের সহায়তার অপব্যবহার করতে পারেন, তাদের অভিবাসনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে।

নতুন এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত রাখা হয়েছে। কেবলমাত্র সেই আবেদনকারীরাই ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচিত হবেন, যারা ‘পাবলিক চার্জ’ সংক্রান্ত সব শর্ত পূরণ করে সম্পূর্ণভাবে যোগ্য প্রমাণিত হবেন।

Link copied!