ঢাকা শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

ভারতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জন্য বড় নিরাপত্তা শঙ্কা দেখছে না আইসিসি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:০৪ রাত

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ দলের জন্য বড় কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত ভেন্যুগুলোতে ঝুঁকির মাত্রা স্বল্প থেকে মাঝারি পর্যায়ের মধ্যে রয়েছে, যা যেকোনো বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত হয়।

এর আগে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দাবি করেছিলেন, আইসিসির পাঠানো একটি চিঠিতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জানান, ওই চিঠিতে মোস্তাফিজুর রহমানের অন্তর্ভুক্তি, দর্শকদের জার্সি পরিধান এবং দেশের নির্বাচন পরিস্থিতিসহ তিনটি বিষয়কে ঝুঁকির কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

তবে ক্রিকেট বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন-ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির অবস্থান ভিন্ন। সংস্থাটি মনে করছে, উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাধারণ নিরাপত্তা প্রস্তুতি বা ‘স্ট্যান্ডার্ড কনটিনজেন্সি প্ল্যানিং’-এর বিষয়গুলোকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইসিসির নিরাপত্তা মূল্যায়নে খেলোয়াড় নির্বাচনে কোনো শর্ত আরোপ কিংবা সমর্থকদের জার্সি পরা নিষিদ্ধ করার মতো কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এটি ছিল কেবল একটি রুটিন ঝুঁকি বিশ্লেষণ, যা বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের আগে নিয়মিতভাবেই করা হয়।

আইসিসির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বিশ্বকাপের সূচি চূড়ান্ত এবং ইতোমধ্যে তা প্রকাশ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী সব দল নিজ নিজ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত ভেন্যুতেই খেলবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছে সংস্থাটি। ফলে ভারতের বাইরে বাংলাদেশের ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিসিবির আবেদনে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি আইসিসি।

পরবর্তীতে বিসিবি ও সরকারের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট করা হয়, ক্রীড়া উপদেষ্টা যে চিঠির কথা উল্লেখ করেছিলেন সেটি মূলত একটি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মূল্যায়ন রিপোর্ট। এটি ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদনের আনুষ্ঠানিক জবাব নয়। এ বিষয়ে আইসিসির অফিসিয়াল প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বিসিবি।

উল্লেখ্য, আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে থাকা মোস্তাফিজুর রহমানকে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। এর জেরে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করা হয় এবং ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বর্তমান সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং শেষ ম্যাচটি মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

Link copied!