ঢাকা শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

বিশেষ অভিযান চললেও থামছে না খুন, নির্বাচনের আগে বাড়ছে উদ্বেগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:১৩ দুপুর

ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ চলমান থাকলেও হত্যাকাণ্ড কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচ শতাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র। এত বড় অভিযানের পরও দেশে খুনের ঘটনা অব্যাহত থাকায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।

আর কিছুদিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তার বড় অংশই রাজনৈতিক সহিংসতার সঙ্গে জড়িত। এতে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এ ধরনের সহিংসতা নির্বাচনের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তারা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংযম ও ঐক্য জরুরি হয়ে উঠেছে।

এর আগে গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরে সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর বাসায় হামলা ও ভাঙচুর এবং ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনার পর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু হয়। প্রথম ধাপের অভিযানে ১২ হাজার ২২০ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং উদ্ধার করা হয় আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র।

নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর রাজধানীতে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীকে গুলি করার ঘটনার পর শুরু হয় অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২। ১৩ ডিসেম্বর থেকে চলমান এই অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ হাজার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রও রয়েছে এবং গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছে চিহ্নিত অপরাধী। তবে এসব অভিযানের মধ্যেও একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটছে। গত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত রাজধানী ও চট্টগ্রামে একাধিক রাজনৈতিক নেতাকর্মী গুলিতে নিহত হয়েছেন বা গুরুতর আহত হয়েছেন।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে দেশে প্রতিদিন গড়ে ১১ জন করে মানুষ খুন হয়েছেন, যা আগের দুই বছরের তুলনায় বেশি। শুধু রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডই ঘটেছে শতাধিক।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১০২ জন। অন্যদিকে পুলিশ সদর দফতরের হিসাব অনুযায়ী, একই বছরে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক মিলিয়ে সারা দেশে ৩ হাজার ৭৮৫টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের গানম্যান দেওয়া হচ্ছে এবং সন্ত্রাসী ও চরমপন্থিদের গ্রেফতারে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের পেছনে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বড় ভূমিকা রাখছে। এসব ঘটনা বাড়তে থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতার ঘাটতি অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা না থাকলে নির্বাচনের আগে সহিংসতার ঝুঁকি আরও বাড়বে।

Link copied!