ঢাকা শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

বিজয় আমাদের নিশ্চিত, এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা বাকি: নুরুল হক নুর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:০১ রাত

ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, নির্বাচনে বিজয় তাদের পক্ষেই এসেছে, এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। তিনি বলেন, জনগণের পাশে থেকেই কাজ করতে চান এবং ভবিষ্যতেও তাদের সঙ্গেই থাকতে চান।

রোববার রাতে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামে হযরত গেদু শাহ চিশস্তি (রহ.)–এর ৪৯তম বাৎসরিক ওরস মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নুরুল হক নুর।

ওরস মাহফিলের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ওয়াজ মাহফিলের মতো ওরস মাহফিলও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। এখানে বাউলসহ নানা মত ও সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি দেশের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে। প্রত্যেক নাগরিকের নিজস্ব বিশ্বাস ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে, যা বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

নুর স্পষ্টভাবে বলেন, কাউকে বাধা দেওয়া, হামলা চালানো বা কোনো অনুষ্ঠান ভাঙচুর করার রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাস করেন না। এসব কর্মকাণ্ড সমাজে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তিনি সবার পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।

দশমিনা ও গলাচিপা অঞ্চলের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব এলাকায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও ব্যবসা করে আসছেন। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কিছু এলাকায় তাদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নুর বলেন, ৫ আগস্টের পর তিনি গলাচিপার বেশিরভাগ হিন্দু ব্যবসায়ীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন—ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ আক্রান্ত হলে তাকে জানালে তিনি ব্যবস্থা নেবেন। ব্যবসা করতে গিয়ে কাউকে চাঁদা দিতে হবে না বলেও ঘোষণা দেন তিনি। দলের কেউ চাঁদাবাজি বা হয়রানিতে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দশমিনা ও গলাচিপাকে রাজনৈতিক সম্প্রীতির রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চান। সেখানে সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে একসঙ্গে অংশ নেবেন এবং মতভেদের কারণে কেউ কারও ওপর হামলা বা মামলা করবে না—এমন ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য।

গণতান্ত্রিক অধিকার প্রসঙ্গে নুর বলেন, প্রত্যেক মানুষের মত প্রকাশ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জোরপূর্বক বাধা বা বিশৃঙ্খলা গণতন্ত্রের পরিপন্থী।

ওরস মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

Link copied!