ঢাকা শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
বিএনপির ছেড়ে দেওয়া ১৩ আসন

৭টিতে অস্বস্তিতে শরিকরা, ৬টিতে স্বস্তির লড়াই

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:২৩ দুপুর

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গীদের নিরাশ করেনি বিএনপি। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের মূল্যায়ন করে দলটি ১৩টি আসন ছাড় দিয়েছে। কিছু আসনে দরকষাকষি থাকলেও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে শরিক দলগুলো। তবে মনোনয়ন পেলেই সব সমস্যার সমাধান হয়নি—মাঠপর্যায়ে গিয়ে অনেক প্রার্থীই পড়েছেন ভিন্ন বাস্তবতায়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৩টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে ধর্মভিত্তিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। দলটির একাংশ পেয়েছে চারটি এবং অপর অংশ একটি আসন। এই ১৩ আসনের মধ্যে নয়জন নিজ নিজ দলীয় প্রতীকে এবং চারজন বিএনপির নির্বাচনি প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ ছাড়া জোটে থাকা কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতা নিজ দল বিলুপ্ত বা পদত্যাগ করে সরাসরি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। লক্ষ্মীপুর-১ আসনে এলডিপি বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া শাহাদত হোসেন সেলিম, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করা সৈয়দ এহসানুল হুদা এবং কুমিল্লা-৭ আসনে এলডিপির মহাসচিব পদ ছাড়ার পর বিএনপিতে যোগ দেওয়া ড. রেদোয়ান আহমেদ সরাসরি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন।

তবে হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও স্থানীয় পর্যায়ে অনেক জায়গায় শরিক প্রার্থীদের ঘিরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আসনে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা জোট প্রার্থীদের সহজে মেনে নিতে পারছেন না। কোথাও কোথাও সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভও হয়েছে। আবার কোথাও প্রকাশ্যে বিরোধিতা না থাকলেও জোট প্রার্থীর প্রচারণায় গড়িমসি করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

সবচেয়ে বেশি উত্তাপ ছড়াচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও পটুয়াখালী-৩ আসনে। সেখানে বিএনপির শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় জোটের হেভিওয়েট প্রার্থীরা পড়েছেন বেকায়দায়। নির্বাচন কমিশনের আরপিও অনুযায়ী এবার জোট করলেও ভিন্ন দলের প্রতীকে নির্বাচন করা যাচ্ছে না। আবার শরিক দলগুলোর অনেক প্রতীক সাধারণ ভোটারের কাছে ততটা পরিচিত নয়। এ কারণেই কেউ কেউ কৌশল হিসেবে দল ভেঙে বা পদত্যাগ করে ধানের শীষে এসেছেন।

বিএনপি হাইকমান্ড একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও ৭টি আসনে এখনো সমঝোতা হয়নি। এসব এলাকায় বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও মাঠে রয়েছেন। দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হলেও তারা নির্বাচন চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে শরিক প্রার্থীদের উদ্বেগ বেড়েছে। কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে গুলশানে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন।

তবে সব আসনে চিত্র একরকম নয়। ১৩টির মধ্যে ছয়টি আসনে জোট প্রার্থীরা তুলনামূলক স্বস্তিতে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এসব আসনে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সরাসরি মাঠে নেমেছেন। শুরুতে আপত্তি থাকলেও বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে তারা অবস্থান বদলেছেন।

ভোলা-১ আসনে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের পক্ষে বিএনপির জেলা নেতারা প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে জোনায়েদ সাকি, নীলফামারী-১ আসনে মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খান, নড়াইল-২ আসনে ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ এবং ঢাকা-১৩ আসনে ববি হাজ্জাজ—এই ছয় আসনে জোট প্রার্থীরা এখন নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এদিকে শরিকদের আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে বিএনপি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগেই সতর্ক করে বলেছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। ২০ জানুয়ারির মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

Link copied!