আগামী নির্বাচনে কেউ কোনো ধরনের মেকানিজম করার চিন্তা করলে তারা পালাতে বাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সেলিব্রেটি হলে সাবেক সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। জামায়াত আমির বলেন, বিগত তিন বা চারটি নির্বাচনের মতো কোনো নির্বাচন তারা দেখতে চান না এবং কোনো অথরিটির সঙ্গে বোঝাপড়ার নির্বাচনও চান না; রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি ভোটারদের বোঝাপড়ার মাধ্যমেই নির্বাচন হওয়া উচিত। তিনি বলেন, সবাই সচেতন থাকলে কেউ কারচুপির চিন্তা করলে পালাতে বাধ্য হবে। জাতি একটি ক্রসরোডে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন কোনো ফরম্যাটেই পড়ে না এবং ৩৫ থেকে ৩৬ বছর বয়সী অনেক মানুষ জীবনে একটি ভোটও দিতে পারেনি। জামায়াত এমন নির্বাচন চায় যেখানে প্রতিটি ভোটার স্বস্তির সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবে এবং নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য। তিনি আরও বলেন, জামায়াত আগামী নির্বাচনকে আইকনিক নির্বাচন হিসেবে দেখতে চায় এবং নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কথার বাস্তব প্রতিফলন চায় কাজে; এজন্য প্রতিটি ভোটিং বুথ সুরক্ষিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের প্রয়োজন হলেও এ বিষয়ে অনিচ্ছা দেখা যাচ্ছে। শফিকুর রহমান বলেন, দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, চুরি ও দুর্নীতি বন্ধ করলে দেশ এগিয়ে যাবে এবং সুশাসনের পূর্বশর্ত হিসেবে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, তা না পারলে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয়েছিল এবং সেই ইতিহাস অক্ষুণ্ন থাকবে। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বীরদের যথাযথ স্বীকৃতি না দিলে ভবিষ্যতে দেশে বীরের জন্ম হবে না। চব্বিশের আন্দোলনের সময় সেনাবাহিনীর দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে দেশ গৃহযুদ্ধ থেকে রক্ষা পেয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তিনি সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতের কথা বলেন এবং দুর্নীতির মূল ধরে টান দেওয়ার আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন :