ঢাকা শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

অতীতের নির্বাচনে পুরো জাতিকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল: প্রধান উপদেষ্টা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:৪৪ রাত

ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ শাসনামলে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, জনগণের অর্থ ব্যয় করে এমন নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছিল, যা কার্যত পুরো জাতির জন্য শাস্তির সমান ছিল। দেশের মানুষ অসহায়ের মতো সবকিছু দেখেছে, কিন্তু কিছুই করার সুযোগ পায়নি। ভবিষ্যতে জনগণ যেন স্বস্তি পায়, সে জন্য এসব নির্বাচনের সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা জাতির সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।

সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আওয়ামী আমলে অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচন নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণের সময় এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রতিবেদনে নির্বাচন আয়োজন ও ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়ম ও রাষ্ট্রীয় অপব্যবহারের চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তদন্ত কমিশনের সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় কমিশন প্রধান সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইনসহ কমিশনের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি আইন, শিল্প, তথ্য ও সংস্কৃতি উপদেষ্টারাও আলোচনায় অংশ নেন।

তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী আমলে অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচন ছিল সুপরিকল্পিত ও সাজানো। এসব নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্য পুলিশ প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়। নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে প্রশাসনের হাতে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাকে তুলে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভোট ডাকাতির কথা আগে থেকেই শোনা গেলেও তদন্তে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা আরও ভয়াবহ। তিনি বলেন, নির্লজ্জভাবে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে নিজেদের ইচ্ছামতো ফলাফল তৈরি করা হয়েছিল। এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড জাতির সামনে তুলে ধরা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো নির্বাচন ব্যবস্থাকে এভাবে ধ্বংস করা না যায়।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র রক্ষায় নির্বাচন ডাকাতি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সেই লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য।

Link copied!