বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সারা দেশে একটি মুক্তির গণজাগরণ শুরু হয়েছে এবং এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গঠন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, মা-বোনদের চলাচলে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জামায়াতে ইসলামীর সবচেয়ে বড় দায়িত্বগুলোর একটি।
বুধবার দুপুরে কুড়িগ্রাম কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনে জামায়াত সবকিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত। তাঁর ভাষায়, মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো রাষ্ট্রই প্রকৃত অর্থে মানবিক রাষ্ট্র হতে পারে না।
তিনি সাম্প্রতিক সময়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে জামায়াতের সাইবার টিম দ্রুত ঘটনার উৎস শনাক্ত করেছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। তিনি বলেন, সত্য কখনো চিরদিন চাপা থাকে না।
রংপুর অঞ্চলের জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে। যারা সামনে দাঁড়িয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক পেতে দিয়েছিল, তারাই ইতিহাস গড়েছে। কুড়িগ্রামের মানুষ সেই ইতিহাসের অংশীদার বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের নদী ও অর্থনীতির প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর নদী রক্ষা ও উন্নয়নের নামে বরাদ্দ হওয়া অর্থ লুটপাট হয়েছে। তাঁর দাবি, বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে এই অর্থ উদ্ধার করা হবে এবং উন্নয়নের সূচনা হবে দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলা কুড়িগ্রাম থেকে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো গোষ্ঠী বা পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি কায়েম করতে চায় না। দলটির লক্ষ্য একটি দলীয় বিজয় নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্মিলিত বিজয় নিশ্চিত করা।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। তাঁরা নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের ভোট ও সমর্থন আদায়ের আহ্বান জানান এবং পরিবর্তনের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

আপনার মতামত লিখুন :