ঢাকা বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র, আতঙ্কে ভোটাররা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪৫ দুপুর

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর জেলায় ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মোট ৪৯৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২১৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি নিরাপত্তা থাকলেও ভোটের পরিবেশ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা কাটছে না।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভোটারদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন বলে দাবি করছেন ভোটাররা।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চারটি আসনের প্রার্থীরা নির্বাচনি পথসভা ও গণসংযোগে ব্যস্ত থাকলেও ভোটের দিন কেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭৪ হাজার ২৬১ জন, যার মধ্যে পোস্টাল ভোটার ৭ হাজার ৪০ জন। লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৯৬২ জন এবং পোস্টাল ভোটার ১০ হাজার ৬৩ জন। লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৬০৫ জন, পোস্টাল ভোটার ৯ হাজার ৮৬৭ জন। লক্ষ্মীপুর-৪ (কমলনগর ও রামগতি) আসনে ভোটার ৪ লাখ ১২ হাজার ২৯৩ জন এবং পোস্টাল ভোটার ৫ হাজার ৮৬৫ জন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ ২১৮টি কেন্দ্রসহ সব কেন্দ্রের নিরাপত্তায় প্রায় তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে রয়েছেন এক হাজার ৩১৩ জন পুলিশ সদস্য, ৬০০ জন সেনাবাহিনী সদস্য এবং ১০ প্লাটুন বিজিবি। ভোটের চার দিন এসব বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

স্থানীয় ভোটারদের ভাষ্য অনুযায়ী, চারটি আসনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ মোট ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যেও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ভোটের আগের দিন ও ভোটের দিন সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন অনেকে।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, একটি দলের প্রার্থী তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং ভোটের দিন অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি তিনি জোর দাবি জানান।

অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী রুহুল আমিন ভূঁইয়া অভিযোগ করে বলেন, একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করছে। গণসংযোগে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়া কঠিন হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে ফেনী-৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোশারফ জানান, নির্বাচনকালীন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বিজিবি কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করবে। ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় টহল, অস্থায়ী চেকপোস্ট, স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেটিই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মূল লক্ষ্য।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এসএম মেহেদী হাসান বলেন, জেলার চারটি সংসদীয় আসনের ৪৯৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও এসব কেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা প্রশাসনের রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Link copied!