ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে স্থবির চট্টগ্রাম বন্দর, জেটি-টার্মিনালজুড়ে অচলাবস্থা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৪:২৬ দুপুর

ছবি: সংগৃহীত

নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মসূচির কারণে জেটি, টার্মিনাল, শেড ও ইয়ার্ডজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে স্থবিরতা, যার প্রভাব পড়েছে পণ্য পরিবহন ও বন্দর পরিচালনার প্রতিটি স্তরে।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে এ কর্মবিরতি শুরু হয়। এতে বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে অবস্থানরত জাহাজ থেকে কনটেইনার ও খোলা পণ্য ওঠানো-নামানো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি পণ্যের ডেলিভারি, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, জাহাজ আনা-নেওয়া, অফডক থেকে কনটেইনার পরিবহন এবং বন্দরের ভেতরে পণ্যবাহী যান চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত এনসিটির ইজারা প্রক্রিয়া থেকে সরে না আসবে, ততক্ষণ এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, বন্দর ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে শ্রমিক-কর্মচারীরা ঐক্যবদ্ধ এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এর আগে এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকরা। সোমবার কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে বুধবার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিকে আন্দোলন শুরুর পরপরই বন্দর কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নেয়। শনিবার প্রথম দিনের কর্মবিরতির পর আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত চারজন কর্মচারীকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়। একই সঙ্গে একদিনের কর্মবিরতিতে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। রবিবার আরও ১২ জন কর্মচারীকে বদলি করা হয়। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আন্দোলনে যুক্ত আরও ১৫ জনকে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলির আদেশ দেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

শ্রমিকদের দাবি, বদলি ও প্রশাসনিক চাপ দিয়ে আন্দোলন দমন করা যাবে না। বরং এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে এবং বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত ফিরিয়ে আনার পথ কঠিন হয়ে উঠছে।

Link copied!