ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজপথে হাজারো মানুষ

মাদুরো দম্পতির মুক্তির দাবিতে উত্তাল কারাকাস

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৪:৩১ দুপুর

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে অপহরণের এক মাস পূর্তিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের মুক্তির দাবিতে রাজধানী কারাকাসে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাজারো মানুষ এই প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেয়, যা বৈশ্বিক সংহতি কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, এই বিক্ষোভে সরকারি কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাদুরোর ছেলে নিকোলাস মাদুরো গেরা যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, একটি বিদেশি শক্তি ভেনেজুয়েলার সার্বভৌম ভূমিতে হস্তক্ষেপ করেছে এবং ৩ জানুয়ারির সেই অভিযানের স্মৃতি জাতির জন্য একটি স্থায়ী ক্ষত হয়ে থাকবে। তার বক্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে আবেগ ও ক্ষোভ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

বিক্ষোভকারীরা “তাদের ফিরিয়ে দাও” এবং “ভেনেজুয়েলায় হস্তক্ষেপ চলবে না”—এমন স্লোগানসংবলিত ব্যানার হাতে নিয়ে রাজপথে নেমে আসেন। সংগীতবাহী ট্রাকের নেতৃত্বে কয়েকশ মিটারজুড়ে মিছিল ছড়িয়ে পড়ে। পৌর কর্মচারী হোসে পেরদোমো বলেন, পরিস্থিতি মানুষকে বিভ্রান্ত, দুঃখিত ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। তার ভাষায়, একদিন না একদিন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে মুক্ত করতেই হবে।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই বিক্ষোভ শুধু কারাকাসেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও একই দাবিতে সংহতি কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ এই অপহরণকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে এবং ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের জন্য এটিকে গুরুতর হুমকি বলে মন্তব্য করেছে।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এক জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। একদিকে মাদুরো সমর্থকদের চাপ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক দাবি সামাল দিতে গিয়ে তিনি শত শত রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছেন। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার হাইড্রোকার্বন খাত বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং সাধারণ ক্ষমা আইনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেটি এখনও সংসদে উপস্থাপিত হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের স্বার্থের সঙ্গে কারাকাসের অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে তিনি রদ্রিগেজ প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যা দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

 

Link copied!