বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশে বর্তমানে এক নতুন ধরনের জালেমের আবির্ভাব ঘটেছে, যাদের মানুষ “গুপ্ত দল” নামে চেনে। এই গুপ্ত রাজনৈতিক শক্তি নিজেদের ইসলামের রাজনীতির ধারক বলে পরিচয় দিলেও প্রকাশ্যে নারীদের নিয়ে কলঙ্কজনক ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করছে, যা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য গভীরভাবে উদ্বেগজনক।
বুধবার বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নারী-পুরুষ উভয়েরই সমান অবদান রয়েছে। কৃষি উৎপাদন থেকে শুরু করে পোশাক শিল্প—সব ক্ষেত্রেই নারীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অথচ একটি গুপ্ত রাজনৈতিক সংগঠন প্রকাশ্যে সেই নারীদের সম্মানহানি করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, নারীদের প্রতি যাদের শ্রদ্ধাবোধ নেই, মা-বোনকে যারা অপমান করে, সেই শক্তির হাতে দেশ নিরাপদ থাকতে পারে না। নারী সমাজকে ঘরে বন্দি রেখে কখনোই একটি দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। গুপ্ত সংগঠনটি পরিকল্পিতভাবে নারী সমাজকে সমাজের মূলধারা থেকে দূরে ঠেলে দিতে চায়, যা উন্নয়নের পরিপন্থী।
গুপ্ত সংগঠনের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, কুমিল্লায় ওই দলের এক নেতা নাকি প্রকাশ্যে বলেছেন—নির্বাচনের আগ পর্যন্ত জনগণের পা ধরতে হবে, আর নির্বাচনের পর জনগণই তাদের পা ধরবে। এ ধরনের মানসিকতা ক্ষমতায় গেলে দেশের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা ভেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষা এইচএসসি পর্যন্ত বিনামূল্যে করেছিলেন। ভবিষ্যতে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে নারীদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। নারীদের কর্মজীবী করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি চালু করা হবে। পাশাপাশি বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে এবং ভোলার গ্যাস ব্যবহার করে শিল্প কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।
বরিশাল অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ এলাকায় কৃষিজমি বেশি হলেও কৃষকরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। এজন্য আধুনিক হিমাগার স্থাপন করা হবে, যাতে কৃষকরা ফসল সংরক্ষণ করে উপযুক্ত সময়ে ভালো দাম পেতে পারেন। কৃষকদের জন্য কার্ড চালুর মাধ্যমে সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ বিনামূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি আরও বলেন, বরিশাল-ভোলাকে সড়কপথে যুক্ত করতে ব্রিজ নির্মাণ, ভোলায় মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের মানোন্নয়ন, হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট দূর করা হবে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের স্থায়ী সুরক্ষায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, যারা যে কাজে দক্ষ, তাদের সেই কাজেই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। জনগণের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারলেই দেশ এগিয়ে যাবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পল্লী বিদ্যুৎ চালু করেছিলেন এবং বেগম খালেদা জিয়া বরিশালকে বিভাগে উন্নীত করেছিলেন। বরিশাল নিয়ে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে নির্বাচনে বিজয়ের পর।
সমাবেশে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকের সভাপতিত্বে বরিশাল ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

আপনার মতামত লিখুন :