মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ফোর্ট হুডে গুলির ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নিহত ব্যক্তিদের নিকটাত্মীয়েরা চাইলে সশরীর উপস্থিত থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর দেখতে পারবেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান ট্রাম্প। এর আগে নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি।
ট্রাম্পের ভাষ্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হলে তা অন্যদের এ ধরনের অপরাধ থেকে বিরত রাখতে ভূমিকা রাখতে পারত। এতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে আচরণ করে, তা বিশ্ববাসী দেখতে পেত।
তবে অনেক বিবেকবান মানুষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে দেখতে চান না—এমন মন্তব্য করে ট্রাম্প জানান, শেষ পর্যন্ত এ ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না।
ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকরের পরিকল্পনা
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। নিহত ব্যক্তিদের নিকটাত্মীয়েরা চাইলে সশরীর উপস্থিত থেকে তা প্রত্যক্ষ করতে পারবেন। তাঁদের ন্যায়বিচার প্রত্যক্ষ করার অধিকার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
পেন্টাগনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩ ডিসেম্বর হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা রয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের উদ্যোগ নিয়ে ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন নেতাও সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও রয়েছেন। ধর্মীয় নেতা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পক্ষ থেকেও এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়।
মৃত্যুদণ্ড সম্প্রচার নিয়ে বিতর্ক
এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছিলেন, সাধারণ মানুষ নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি দেখতে পারবেন। তাঁর মতে, এ ধরনের অপরাধের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে মানুষের ধারণা থাকা প্রয়োজন।
তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের বিরোধিতা করেছেন।
২০০৯ সালের ফোর্ট হুড হামলা
নিদাল হাসান যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক স্থাপনায় গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে সামরিক আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি। তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি এবং তা সরাসরি সম্প্রচারের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
সূত্র: বিবিসি

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ফোর্ট হুডে গুলির ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নিহত ব্যক্তিদের নিকটাত্মীয়েরা চাইলে সশরীর উপস্থিত থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর দেখতে পারবেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান ট্রাম্প। এর আগে নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি।
ট্রাম্পের ভাষ্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হলে তা অন্যদের এ ধরনের অপরাধ থেকে বিরত রাখতে ভূমিকা রাখতে পারত। এতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে আচরণ করে, তা বিশ্ববাসী দেখতে পেত।
তবে অনেক বিবেকবান মানুষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে দেখতে চান না—এমন মন্তব্য করে ট্রাম্প জানান, শেষ পর্যন্ত এ ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না।
ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকরের পরিকল্পনা
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। নিহত ব্যক্তিদের নিকটাত্মীয়েরা চাইলে সশরীর উপস্থিত থেকে তা প্রত্যক্ষ করতে পারবেন। তাঁদের ন্যায়বিচার প্রত্যক্ষ করার অধিকার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
পেন্টাগনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩ ডিসেম্বর হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা রয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের উদ্যোগ নিয়ে ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন নেতাও সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও রয়েছেন। ধর্মীয় নেতা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পক্ষ থেকেও এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়।
মৃত্যুদণ্ড সম্প্রচার নিয়ে বিতর্ক
এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছিলেন, সাধারণ মানুষ নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি দেখতে পারবেন। তাঁর মতে, এ ধরনের অপরাধের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে মানুষের ধারণা থাকা প্রয়োজন।
তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের বিরোধিতা করেছেন।
২০০৯ সালের ফোর্ট হুড হামলা
নিদাল হাসান যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক স্থাপনায় গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে সামরিক আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি। তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি এবং তা সরাসরি সম্প্রচারের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
সূত্র: বিবিসি

মতামত