জুলাই সনদের এক বছর: বাস্তবায়ন নিয়জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পূর্ণ হলো আজ শনিবার। রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঠামোগত সংস্কার এবং রাজনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত এই সনদকে ঘিরে এক বছর আগেও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। তবে সময়ের ব্যবধানে সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। বর্তমানে সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলো কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকারের নির্ধারণ করা প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে না বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি। দলটি সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলো গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের বক্তব্য, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছে, তা পাশ কাটিয়ে অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবিধান সংশোধনে বিএনপির উদ্যোগ
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেই সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে মতবিনিময় করছে।
কমিটি আশা করছে, শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলগুলো সংসদে সংবিধান সংশোধন বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নেবে। জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্ট যেভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সেই বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা সংস্কার প্রস্তাবগুলোও গুরুত্ব পাবে।
কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জানুয়ারিতে সংবিধান সংশোধন বিল সংসদে উত্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিরোধী দলগুলোর আপত্তি অব্যাহত থাকলে এ প্রক্রিয়া কতটা রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগোবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোটকে মতবিনিময়ের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বিশেষ সংসদীয় কমিটি। তবে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১টি দল সেই আমন্ত্রণে সাড়া দেয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দলগুলো বর্তমান সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার অংশ হতে আগ্রহী নয়।
কী এই জুলাই জাতীয় সনদ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়। সরকার পরিবর্তনের পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে পুনর্গঠন করা হবে এবং ভবিষ্যতে ক্ষমতার ভারসাম্য কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দুই মাস পর ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের লক্ষ্যে ছয়টি কমিশন গঠন করে। সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কারের জন্য এসব কমিশন কাজ করে।
পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। প্রায় আট মাস ধরে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনার পর প্রণয়ন করা হয় ‘জুলাই জাতীয় সনদ’।
সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত। অন্য প্রস্তাবগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, আইন ও রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোগত পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। সনদের শেষ অংশে বাস্তবায়ন নিয়ে সাত দফা অঙ্গীকারনামাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
গত বছরের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ২৪টি রাজনৈতিক দল সনদের অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করে। পরে গণফোরাম এবং চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি এনসিপি সনদে স্বাক্ষর করে। তবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অংশ নেওয়া বামধারার চারটি দল সনদে স্বাক্ষর করেনি।
নোট অব ডিসেন্ট নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য
জুলাই জাতীয় সনদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে এক বা একাধিক রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত রয়েছে। সনদে এসব ভিন্নমতকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো প্রস্তাব নিয়ে ঐকমত্য না থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সনদে সেটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, উচ্চকক্ষের ক্ষমতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রক্রিয়া, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো এবং প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকার বিধান উল্লেখযোগ্য। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।
উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অবস্থানের পার্থক্য বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে। জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। নিম্নকক্ষের নির্বাচনে একটি দল সারা দেশে যত ভোট পাবে, সেই ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষে তাদের আসন বণ্টন করা হবে।
তবে এ প্রস্তাবে বিএনপির ভিন্নমত রয়েছে। দলটির অবস্থান হলো, উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন হওয়া উচিত নিম্নকক্ষে একটি দল যতটি আসন পাবে, তার ভিত্তিতে। ফলে উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
গণভোটে ছিল না দলগুলোর ভিন্নমত
জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলোর ওপর অনুষ্ঠিত গণভোটকে কেন্দ্র করেও বর্তমান রাজনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়েছে। সনদে বিভিন্ন দলের ভিন্নমত উল্লেখ থাকলেও গণভোটের ব্যালটে বিএনপি বা অন্য কোনো দলের নোট অব ডিসেন্ট আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়নি। অর্থাৎ, ভোটারদের সামনে সনদের মূল সংস্কার প্রস্তাবগুলোই রাখা হয়েছিল।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের ভিত্তিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল।
কিন্তু বিএনপি এ আদেশকে অবৈধ বলে দাবি করেছে। দলটির বক্তব্য, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোনো সাংবিধানিক সুযোগ নেই। এ কারণে বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন। তবে বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ না নেওয়ার কারণে প্রস্তাবিত সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি।
নির্বাচনী ইশতেহারকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি
বিএনপির দাবি, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমতসহ স্বাক্ষরিত হয়েছিল, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সেই কাঠামো অনুসরণ করা উচিত। দলটির নির্বাচনী ইশতেহারেও সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে এ অবস্থানের প্রতিফলন রয়েছে।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ যে আঙ্গিকে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত হয়েছে, সে অনুযায়ী বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিএনপির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সনদে স্বাক্ষর করার অর্থ এই নয় যে প্রতিটি প্রস্তাবে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছিল। বরং দলগুলোর ভিন্নমত সনদে সংরক্ষিত ছিল। সনদের একটি নোটে বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে কোনো বিষয় উল্লেখ করে জনগণের ম্যান্ডেট পেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে।
তবে বিরোধী দলগুলোর যুক্তি, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের অনুমোদন পাওয়ার পর সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। তাদের মতে, গণভোটের রায় কার্যকর করাই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিরোধের শুরু
জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের সময়ই এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রাথমিক অবস্থান ছিল, বাস্তবায়ন পদ্ধতি সনদের মূল অংশের বাইরে রাখা হবে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পাঁচ দফা সংলাপ করে কমিশন। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও দীর্ঘ আলোচনা করা হয়। এসব আলোচনার ভিত্তিতে কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে দুটি প্রস্তাব সুপারিশ করে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৩ নভেম্বর ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। আদেশে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছিল। এ জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের পাশাপাশি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার বিধান রাখা হয়।
কিন্তু বাস্তবায়ন আদেশের বৈধতা এবং শপথের পদ্ধতি নিয়ে বিএনপি আপত্তি জানায়। ফলে আদেশ অনুযায়ী সংস্কার পরিষদ গঠন করা সম্ভব হয়নি। এর পর থেকেই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
রাজপথের আন্দোলনে যেতে চায় বিরোধী দল
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই সনদ কার্যকর করার দাবিতে রাজনৈতিক আন্দোলন জোরদার করতে চায় বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। দলটির বক্তব্য, গণভোটের রায়কে পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
ইতিমধ্যে বিরোধী দলগুলো লংমার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। তাদের দাবি, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
অন্যদিকে সরকার ও ক্ষমতাসীন বিএনপি সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ এগিয়ে নিতে চাইছে। ফলে সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে সংসদ ও রাজপথ—দুই ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক বিরোধ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অঙ্গীকার থেকে সরে আসার অভিযোগ
সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের মতে, জুলাই জাতীয় সনদ কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার দলিল নয়; গণভোটের মাধ্যমে এটি জনগণের সমর্থনও পেয়েছে।
তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সনদে শুধু কী কী সংস্কার করতে হবে, তা নির্ধারণ করা হয়নি; কীভাবে সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা হবে, তার রূপরেখাও আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হয়েছিল। রাজনৈতিক দলগুলো সনদের অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছিল। এখন কোনো দল সেই অবস্থান থেকে সরে এলে তা অঙ্গীকারের ব্যত্যয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
জুলাই জাতীয় সনদের এক বছর পূর্তিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে তাই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রত্যাশা নিয়ে এই সনদ তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়িত হবে। সংবিধান সংশোধন, গণভোটের রায় এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সমঝোতার প্রশ্নে মতপার্থক্য দূর না হলে সনদের ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
পরিবর্তন সংবাদ/এসআর

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
জুলাই সনদের এক বছর: বাস্তবায়ন নিয়জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পূর্ণ হলো আজ শনিবার। রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঠামোগত সংস্কার এবং রাজনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত এই সনদকে ঘিরে এক বছর আগেও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। তবে সময়ের ব্যবধানে সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। বর্তমানে সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলো কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকারের নির্ধারণ করা প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে না বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি। দলটি সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলো গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের বক্তব্য, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছে, তা পাশ কাটিয়ে অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবিধান সংশোধনে বিএনপির উদ্যোগ
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেই সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে মতবিনিময় করছে।
কমিটি আশা করছে, শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলগুলো সংসদে সংবিধান সংশোধন বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নেবে। জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্ট যেভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সেই বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা সংস্কার প্রস্তাবগুলোও গুরুত্ব পাবে।
কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জানুয়ারিতে সংবিধান সংশোধন বিল সংসদে উত্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিরোধী দলগুলোর আপত্তি অব্যাহত থাকলে এ প্রক্রিয়া কতটা রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগোবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোটকে মতবিনিময়ের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বিশেষ সংসদীয় কমিটি। তবে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১টি দল সেই আমন্ত্রণে সাড়া দেয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দলগুলো বর্তমান সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার অংশ হতে আগ্রহী নয়।
কী এই জুলাই জাতীয় সনদ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়। সরকার পরিবর্তনের পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে পুনর্গঠন করা হবে এবং ভবিষ্যতে ক্ষমতার ভারসাম্য কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দুই মাস পর ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের লক্ষ্যে ছয়টি কমিশন গঠন করে। সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কারের জন্য এসব কমিশন কাজ করে।
পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। প্রায় আট মাস ধরে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনার পর প্রণয়ন করা হয় ‘জুলাই জাতীয় সনদ’।
সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত। অন্য প্রস্তাবগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, আইন ও রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোগত পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। সনদের শেষ অংশে বাস্তবায়ন নিয়ে সাত দফা অঙ্গীকারনামাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
গত বছরের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ২৪টি রাজনৈতিক দল সনদের অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করে। পরে গণফোরাম এবং চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি এনসিপি সনদে স্বাক্ষর করে। তবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অংশ নেওয়া বামধারার চারটি দল সনদে স্বাক্ষর করেনি।
নোট অব ডিসেন্ট নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য
জুলাই জাতীয় সনদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে এক বা একাধিক রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত রয়েছে। সনদে এসব ভিন্নমতকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো প্রস্তাব নিয়ে ঐকমত্য না থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সনদে সেটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, উচ্চকক্ষের ক্ষমতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রক্রিয়া, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো এবং প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকার বিধান উল্লেখযোগ্য। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।
উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অবস্থানের পার্থক্য বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে। জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। নিম্নকক্ষের নির্বাচনে একটি দল সারা দেশে যত ভোট পাবে, সেই ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষে তাদের আসন বণ্টন করা হবে।
তবে এ প্রস্তাবে বিএনপির ভিন্নমত রয়েছে। দলটির অবস্থান হলো, উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন হওয়া উচিত নিম্নকক্ষে একটি দল যতটি আসন পাবে, তার ভিত্তিতে। ফলে উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
গণভোটে ছিল না দলগুলোর ভিন্নমত
জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলোর ওপর অনুষ্ঠিত গণভোটকে কেন্দ্র করেও বর্তমান রাজনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়েছে। সনদে বিভিন্ন দলের ভিন্নমত উল্লেখ থাকলেও গণভোটের ব্যালটে বিএনপি বা অন্য কোনো দলের নোট অব ডিসেন্ট আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়নি। অর্থাৎ, ভোটারদের সামনে সনদের মূল সংস্কার প্রস্তাবগুলোই রাখা হয়েছিল।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের ভিত্তিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল।
কিন্তু বিএনপি এ আদেশকে অবৈধ বলে দাবি করেছে। দলটির বক্তব্য, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোনো সাংবিধানিক সুযোগ নেই। এ কারণে বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন। তবে বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ না নেওয়ার কারণে প্রস্তাবিত সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি।
নির্বাচনী ইশতেহারকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি
বিএনপির দাবি, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমতসহ স্বাক্ষরিত হয়েছিল, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সেই কাঠামো অনুসরণ করা উচিত। দলটির নির্বাচনী ইশতেহারেও সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে এ অবস্থানের প্রতিফলন রয়েছে।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ যে আঙ্গিকে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত হয়েছে, সে অনুযায়ী বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিএনপির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সনদে স্বাক্ষর করার অর্থ এই নয় যে প্রতিটি প্রস্তাবে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছিল। বরং দলগুলোর ভিন্নমত সনদে সংরক্ষিত ছিল। সনদের একটি নোটে বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে কোনো বিষয় উল্লেখ করে জনগণের ম্যান্ডেট পেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে।
তবে বিরোধী দলগুলোর যুক্তি, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের অনুমোদন পাওয়ার পর সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। তাদের মতে, গণভোটের রায় কার্যকর করাই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিরোধের শুরু
জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের সময়ই এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রাথমিক অবস্থান ছিল, বাস্তবায়ন পদ্ধতি সনদের মূল অংশের বাইরে রাখা হবে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পাঁচ দফা সংলাপ করে কমিশন। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও দীর্ঘ আলোচনা করা হয়। এসব আলোচনার ভিত্তিতে কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে দুটি প্রস্তাব সুপারিশ করে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৩ নভেম্বর ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। আদেশে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছিল। এ জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের পাশাপাশি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার বিধান রাখা হয়।
কিন্তু বাস্তবায়ন আদেশের বৈধতা এবং শপথের পদ্ধতি নিয়ে বিএনপি আপত্তি জানায়। ফলে আদেশ অনুযায়ী সংস্কার পরিষদ গঠন করা সম্ভব হয়নি। এর পর থেকেই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
রাজপথের আন্দোলনে যেতে চায় বিরোধী দল
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই সনদ কার্যকর করার দাবিতে রাজনৈতিক আন্দোলন জোরদার করতে চায় বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। দলটির বক্তব্য, গণভোটের রায়কে পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
ইতিমধ্যে বিরোধী দলগুলো লংমার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। তাদের দাবি, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
অন্যদিকে সরকার ও ক্ষমতাসীন বিএনপি সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ এগিয়ে নিতে চাইছে। ফলে সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে সংসদ ও রাজপথ—দুই ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক বিরোধ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অঙ্গীকার থেকে সরে আসার অভিযোগ
সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের মতে, জুলাই জাতীয় সনদ কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার দলিল নয়; গণভোটের মাধ্যমে এটি জনগণের সমর্থনও পেয়েছে।
তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সনদে শুধু কী কী সংস্কার করতে হবে, তা নির্ধারণ করা হয়নি; কীভাবে সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা হবে, তার রূপরেখাও আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হয়েছিল। রাজনৈতিক দলগুলো সনদের অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছিল। এখন কোনো দল সেই অবস্থান থেকে সরে এলে তা অঙ্গীকারের ব্যত্যয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
জুলাই জাতীয় সনদের এক বছর পূর্তিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে তাই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রত্যাশা নিয়ে এই সনদ তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়িত হবে। সংবিধান সংশোধন, গণভোটের রায় এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সমঝোতার প্রশ্নে মতপার্থক্য দূর না হলে সনদের ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
পরিবর্তন সংবাদ/এসআর

মতামত