ঢাকা শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

থমাস ডুলিকে ঘিরে নতুন আশা, ইতিহাস সুখকর নয়

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ মে, ২০২৬, ০৩:২০ দুপুর

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে ঢাকায় পৌঁছেছেন জার্মান কোচ থমাস ডুলি। আগামী ৫ জুন সান মেরিনোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই শুরু হতে যাচ্ছে তার বাংলাদেশ অধ্যায়। তবে ডুলির আগেও লাল-সবুজ দলের ডাগআউটে বসেছেন বহু বিদেশি কোচ, যাদের মধ্যে কেবল কয়েকজনই সাফল্যের ছাপ রাখতে পেরেছেন।

বাংলাদেশ ফুটবল দলের ইতিহাসে প্রথম বিদেশি কোচ ছিলেন জার্মানির ব্যাকেল হফট। ১৯৭৮ সালে তিনি জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন। এরপর ১৯৮২ সালে আরেক জার্মান গেরহার্ড স্মিথ কোচ হিসেবে আসেন। পরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এশিয়ার কোচদের দিকেও নজর দেয়। ১৯৮৯ সালে ইরানের সাবেক বিশ্বকাপার নাসের হেজাজি বাংলাদেশের দায়িত্ব নেন।

১৯৯৩ সালে সুইজারল্যান্ডের অলড্রিখ সোয়াব দায়িত্ব নেওয়ার পর এক বছর পরে আসেন দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যান ইয়াং ক্যাং। এরপর জার্মান কোচ অটো ফিস্টার বাংলাদেশ ফুটবলে নতুন মাত্রা যোগ করেন। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা এই কোচের অধীনেই বাংলাদেশ প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি জেতে। মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড রয়্যাল চ্যালেঞ্জ কাপ জিতে দেশের ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়ে দলটি।

এরপর ইরাকের সামির সাকির বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়ে ১৯৯৯ সালে কাঠমান্ডু সাফ গেমসে ফুটবলে স্বর্ণপদক এনে দেন। যদিও সাফল্যের পরও তার বিদায়টা সুখকর হয়নি। একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন ইংল্যান্ডের মার্ক হ্যারিসনও।

বাংলাদেশ ফুটবলের অন্যতম সফল বিদেশি কোচ হিসেবে বিবেচনা করা হয় অস্ট্রিয়ার জর্জ কোটানকে। তার অধীনেই ২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। পরে আর্জেন্টিনার আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানির কোচিংয়ে ২০০৫ সালের সাফে রানার্সআপ হয় দলটি।

বিদেশি কোচদের মধ্যে ব্রাজিলের এডসন সিলভা ডিডো ও সার্বিয়ার জোরান জর্জেভিচও আলোচনায় ছিলেন। জর্জেভিচের অধীনে বাংলাদেশ এসএ গেমসে দ্বিতীয়বারের মতো ফুটবলে স্বর্ণ জেতে। তবে বেতনসংক্রান্ত জটিলতায় তার অধ্যায়ও দ্রুত শেষ হয়।

পরবর্তী সময়ে রবার্ট রুবচিচ, জর্জি ভস্কি, লুডউইক ডি ক্রুইফ, ফাবিও লোপেজ, টম সেন্টফিট, অ্যান্ড্রু ওর্ড, জেমি ডে, মারিও লেমস, অস্কার ব্রুজন ও হাভিয়ের কাবরেরার মতো কোচরা দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্বে ছিলেন কাবরেরা।

এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন থমাস ডুলি। নতুন এই জার্মান কোচকে ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশা, অতীতের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে বাংলাদেশ ফুটবলকে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যাবেন তিনি।

 

Link copied!