বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জলবায়ুজনিত ক্ষতি ও কৃষি উৎপাদনে ধীরগতির প্রভাব মোকাবিলায় আসন্ন জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বিকল্প নেই।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের বাজেট, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও সংস্কারে অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব মতামত তুলে ধরেন। ‘কৃষি, শিল্প বহুমুখীকরণ ও রপ্তানি উন্নয়ন’ বিষয়ক সেশনে দেশের কৃষি, শিল্প ও অর্থনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষি উৎপাদন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে বন্যার কারণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে চালের বাজারেও দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি। প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতে বড় আকারের বিনিয়োগ, ভর্তুকি বৃদ্ধি এবং কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সরাসরি ধান সংগ্রহ ও গ্রামভিত্তিক সংগ্রহকেন্দ্র স্থাপনের পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতারা শিল্প খাতের সংস্কার ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেন। বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে জ্বালানি নিরাপত্তা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, সহজ লাইসেন্সিং ব্যবস্থা এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কার অত্যন্ত প্রয়োজন।
লেদার ও রপ্তানি খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, উচ্চ সুদহার উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মসংস্থান বাড়াতে উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে গার্মেন্টস খাতের প্রতিনিধি কাজী ইফতেখার হোসেন বলেন, দীর্ঘমেয়াদে শুধু সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভর করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব নয়। শিল্পে বৈচিত্র্য আনতে হবে এবং কৃষিভিত্তিক রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
আলোচনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হক স্বাস্থ্য ও বাজেট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, জনগণের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, সে বিষয়ে জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।
সভায় সভাপতিত্বকারী সারজিস আলম কৃষকের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, মাঠপর্যায়ে সার ও কীটনাশকের প্রাপ্যতা এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে কৃষকদের উৎপাদনে আগ্রহ কমে যেতে পারে। কৃষক যেন অন্তত লাভজনক দামে পণ্য বিক্রি করতে পারেন, সে নিশ্চয়তা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :