ঢাকা বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ না ‘না’—ফলাফলে কী বদলাবে রাষ্ট্র পরিচালনায়

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:২৪ রাত

ছবি: সংগৃহীত

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোট। ওই দিন ভোটাররা দুটি ব্যালট দেবেন—একটি নিজ নিজ সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং অন্যটি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত জানানোর জন্য। এই দ্বিতীয় ভোটই গণভোট, যেখানে ভোট দিতে হবে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ অপশনে।

তবে সাধারণ ভোটারদের বড় একটি অংশের কাছে এখনো পরিষ্কার নয়—গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে কী ঘটবে এবং ‘না’ জয়ী হলে কী ধরনের প্রভাব পড়বে রাষ্ট্র কাঠামোর ওপর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবারের গণভোট মূলত সংবিধান সংস্কারকেন্দ্রিক। জুলাই সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব থাকলেও গণভোটে গুরুত্ব পাচ্ছে সংবিধান সংশ্লিষ্ট ৩০টি প্রস্তাব। এসব প্রস্তাব ব্যালটে আলাদা করে লেখা থাকবে না; বরং চারটি প্রশ্নের একটি প্যাকেজ আকারে ভোটারদের সামনে উপস্থাপন করা হবে, যার পক্ষে বা বিপক্ষে একবারই ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, চারটি প্রশ্নের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার, সংসদের কাঠামো পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিগুলোকে সংক্ষেপে তুলে ধরা হচ্ছে। শেষ প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এসব সংস্কার বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে কী হবে

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে। সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছরই থাকবে, তবে কোনো ব্যক্তি টানা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট—একটি নিম্নকক্ষ ও একটি ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ, যা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে গঠিত হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সাংবিধানিকভাবে পুনর্বহাল হবে। সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করা হবে। ডেপুটি স্পিকার বাধ্যতামূলকভাবে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবেন। বাজেট ও আস্থা ভোট ছাড়া অন্য বিষয়ে সংসদ সদস্যরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন।

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংসদের উভয় কক্ষের সম্মতি প্রয়োজন হবে। বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেওয়া হবে এবং বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত কমিশন দায়িত্ব পালন করবে।

গণভোটে ‘না’ জিতলে কী হবে

গণভোটে ‘না’ জয়ী হলে জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবে না। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে না এবং বিদ্যমান সংবিধান ও সংসদ কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদে কোনো সীমা আরোপ হবে না এবং সংসদ সদস্যরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা বাড়বে না। রাষ্ট্রপতির বর্তমান ক্ষমতা অপরিবর্তিত থাকবে, যার মধ্যে প্রাণভিক্ষার ক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত। অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গণভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, বাস্তবে সংস্কার কার্যকর হওয়ার বিষয়টি অনেকাংশেই রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করবে।

প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জানিয়েছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে, যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

Link copied!