দৈনিক পরিবর্তন সংবাদ

হারামিয়া ইউপি চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সমর্থন চান ফছিউল আলম রহিম, ৬৮টি রাজনৈতিক মামলায় কারাবরণ, ১০ বছরের বেশি সময় কাটিয়েছেন কারাগারে

হারামিয়া ইউপি চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সমর্থন চান ফছিউল আলম রহিম,  ৬৮টি রাজনৈতিক মামলায় কারাবরণ, ১০ বছরের বেশি সময় কাটিয়েছেন কারাগারে

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার ১৮ নম্বর হারামিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দলীয় সমর্থন প্রত্যাশা করছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য ও হারামিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ফছিউল আলম রহিম।

এ উপলক্ষে সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় নিজ বাসভবনে সন্দ্বীপে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন তিনি। এতে হারামিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ, নির্যাতন, মামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ফছিউল আলম রহিম। তিনি জানান, ১৯৮৩ সাল থেকে সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁর পরিবার বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়।

তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনার পর তাঁর বড় ভাই সৈনিক আবুল কালাম আজাদ ২২ বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত অবস্থায় দোষী সাব্যস্ত হন। পরবর্তী সময়ে তাঁর মা ও বড় ভাই আবুল কাশেমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর ভাইয়ের প্রাণভিক্ষার আবেদন গ্রহণ করেন। এ ঘটনা তাঁদের পরিবারের রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

নিজের ও পরিবারের রাজনৈতিক নির্যাতনের ইতিহাস তুলে ধরে ফছিউল আলম রহিম বলেন, ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তাঁকে ও তাঁর পাঁচ ভাইকে একসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর প্রয়াত ভাই আবুল কাশেম, অহিদুল মাওলা, আবু তাহের ও সামছুল হক বলি মেম্বারসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও বিভিন্ন সময়ে কারাবরণ করেন।

ফছিউল আলম রহিমের দাবি, জাতীয় পার্টির শাসনামল থেকে ১৯৯০ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আরও ৪৯টি মামলা করা হয়। সব মিলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ৬৮টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি হত্যা মামলা। এসব মামলায় বিভিন্ন সময়ে কারাবরণ করতে হয়েছে এবং জীবনের ১০ বছরের বেশি সময় কারাগারে কাটিয়েছেন বলে জানান তিনি।

রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হারামিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি, তিনবারের সাবেক সভাপতি, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং হারামিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরও জানান, ২০১১ ও ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি তাঁকে দুইবার দলীয় মনোনয়ন দিয়েছিল। প্রথমবার জাহাজ প্রতীক এবং দ্বিতীয়বার ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। ওই দুই নির্বাচনে ইউনিয়নবাসীর সমর্থন পেলেও শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জন করতে পারেননি বলে জানান তিনি।

আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন পেলে হারামিয়া ইউনিয়নের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং উপকূলীয় এলাকার সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ফছিউল আলম রহিম। নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদকে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত এবং জনবান্ধব সেবাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।

দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ ও পরিবারের অবদানের মূল্যায়ন করে বিএনপি এবারও তাঁকে চূড়ান্ত দলীয় সমর্থন দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে হারামিয়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হারামিয়া ইউপি চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সমর্থন চান ফছিউল আলম রহিম, ৬৮টি রাজনৈতিক মামলায় কারাবরণ, ১০ বছরের বেশি সময় কাটিয়েছেন কারাগারে
0:00 0:00
1.0x
দৈনিক পরিবর্তন সংবাদ

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


হারামিয়া ইউপি চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সমর্থন চান ফছিউল আলম রহিম, ৬৮টি রাজনৈতিক মামলায় কারাবরণ, ১০ বছরের বেশি সময় কাটিয়েছেন কারাগারে

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার ১৮ নম্বর হারামিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দলীয় সমর্থন প্রত্যাশা করছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য ও হারামিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ফছিউল আলম রহিম।

এ উপলক্ষে সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় নিজ বাসভবনে সন্দ্বীপে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন তিনি। এতে হারামিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ, নির্যাতন, মামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ফছিউল আলম রহিম। তিনি জানান, ১৯৮৩ সাল থেকে সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁর পরিবার বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়।

তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনার পর তাঁর বড় ভাই সৈনিক আবুল কালাম আজাদ ২২ বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত অবস্থায় দোষী সাব্যস্ত হন। পরবর্তী সময়ে তাঁর মা ও বড় ভাই আবুল কাশেমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর ভাইয়ের প্রাণভিক্ষার আবেদন গ্রহণ করেন। এ ঘটনা তাঁদের পরিবারের রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

নিজের ও পরিবারের রাজনৈতিক নির্যাতনের ইতিহাস তুলে ধরে ফছিউল আলম রহিম বলেন, ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তাঁকে ও তাঁর পাঁচ ভাইকে একসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর প্রয়াত ভাই আবুল কাশেম, অহিদুল মাওলা, আবু তাহের ও সামছুল হক বলি মেম্বারসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও বিভিন্ন সময়ে কারাবরণ করেন।

ফছিউল আলম রহিমের দাবি, জাতীয় পার্টির শাসনামল থেকে ১৯৯০ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আরও ৪৯টি মামলা করা হয়। সব মিলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ৬৮টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি হত্যা মামলা। এসব মামলায় বিভিন্ন সময়ে কারাবরণ করতে হয়েছে এবং জীবনের ১০ বছরের বেশি সময় কারাগারে কাটিয়েছেন বলে জানান তিনি।

রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হারামিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি, তিনবারের সাবেক সভাপতি, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং হারামিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরও জানান, ২০১১ ও ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি তাঁকে দুইবার দলীয় মনোনয়ন দিয়েছিল। প্রথমবার জাহাজ প্রতীক এবং দ্বিতীয়বার ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। ওই দুই নির্বাচনে ইউনিয়নবাসীর সমর্থন পেলেও শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জন করতে পারেননি বলে জানান তিনি।

আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন পেলে হারামিয়া ইউনিয়নের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং উপকূলীয় এলাকার সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ফছিউল আলম রহিম। নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদকে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত এবং জনবান্ধব সেবাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।

দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ ও পরিবারের অবদানের মূল্যায়ন করে বিএনপি এবারও তাঁকে চূড়ান্ত দলীয় সমর্থন দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে হারামিয়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।


দৈনিক পরিবর্তন সংবাদ

উপদেষ্টা সম্পাদক: গোলাম আকবর খন্দকার (সাবেক এমপি)
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: লেঃ কর্নেল এ কে এম রশিদুন্নবী,পিএসসি ( অবঃ)
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শাহাদাৎ হোসেন

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত