দৈনিক পরিবর্তন সংবাদ
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

পরিবারের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিঃসঙ্গতা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিনেতার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

‘পাগল’ নন সমু চৌধুরী, কোন অসুস্থতার কথা জানালেন মনিরা মিঠু?

‘পাগল’ নন সমু চৌধুরী, কোন অসুস্থতার কথা জানালেন মনিরা মিঠু?

একসময় টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন অভিনেতা সমু চৌধুরী। তবে সময়ের ব্যবধানে তার বর্তমান জীবনযাপনের কিছু দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। কেউ তাকে নিয়ে কটূক্তি করছেন, আবার কেউ তার পরিস্থিতি দেখে প্রকাশ করছেন আক্ষেপ। এমন পরিস্থিতিতে এই অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়ে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী মনিরা মিঠু। তার দাবি, সমু চৌধুরী বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত।

সম্প্রতি ফেসবুকে সমু চৌধুরীর একটি ছবি প্রকাশ করে দীর্ঘ একটি পোস্ট দেন মনিরা মিঠু। সেখানে অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবন, পরিবারের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিঃসঙ্গতা ও অসুস্থতা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে সমু চৌধুরীকে ‘পাগল’ কিংবা ‘নেশাখোর’ বলে আখ্যা দেওয়ার বিরোধিতা করেন এই অভিনেত্রী।


সমু চৌধুরীর অসুস্থতা নিয়ে যা বললেন মনিরা মিঠু

ফেসবুক পোস্টে মনিরা মিঠু লেখেন, ‘আহারে শিল্পী, কত একা আপনি। অভিনেতা সমু চৌধুরী লোকজনের কাছে আজ পাগল, নেশাখোর। এই গুণী মানুষটি আসলে বাই পোলার পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারের পেশেন্ট। এই অসুখে যে উনি আক্রান্ত, এই বিষয়ে একদম পরিষ্কার ধারণা আমার আছে।’


পরিবারে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, এরপর বদলে যায় জীবন

সমু চৌধুরীর জীবনের এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মনিরা মিঠু। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় সমু চৌধুরীর আপন ভাই-বোনসহ পরিবারের পাঁচ থেকে ছয়জন সদস্য মারা যান। বর্তমানে তার বৃদ্ধা মা বেঁচে আছেন। ওই দুর্ঘটনার আগে অভিনয়ে সক্রিয় থাকলেও মর্মান্তিক ঘটনার পর দীর্ঘ সময় আড়ালে চলে যান এই অভিনেতা।

মনিরা মিঠু জানান, কয়েক বছর পর আবার অভিনয়ে ফিরলেও সমু চৌধুরী বিয়ে করেননি। মায়ের নিঃসঙ্গতার কথা ভেবেই তিনি নিজের সংসার না গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন অভিনেত্রী।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমু চৌধুরী ভাবতেন, বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লে তার মা একা হয়ে যাবেন। মায়ের কথা চিন্তা করেই তিনি একাকিত্বকে বেছে নিয়েছিলেন বলে জানান মনিরা মিঠু।


শুটিং সেটে আচরণে পরিবর্তন

সমু চৌধুরীর সঙ্গে একাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন মনিরা মিঠু। দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সূত্রে তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক চর্চা সম্পর্কে ধারণা রয়েছে বলে জানান তিনি। সমু চৌধুরীকে অভিযোগহীন ও নির্ভেজাল ভালো মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে তার দর্শনচর্চা ও কবিতা আবৃত্তির প্রশংসাও করেন এই অভিনেত্রী।

তবে প্রায় দুই বছর আগে সমু চৌধুরীর আচরণে কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ করেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেছেন মনিরা মিঠু। তার বর্ণনা অনুযায়ী, শুটিং সেটে এসে সমু চৌধুরী অনর্গল কথা বলতেন, নাচতেন এবং বিখ্যাত মঞ্চনাটকের সংলাপ উচ্চস্বরে আবৃত্তি করতেন।

এ সময় তার আচরণ নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা হতো। কেউ কেউ তার এই অবস্থাকে মাদক গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত করলেও মনিরা মিঠুর ধারণা ছিল, এর পেছনে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা থাকতে পারে।


মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানালেন

নিজের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের এমন অসুস্থতার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন মনিরা মিঠু। তার চাচি ও মেজো ভাইয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের মানসিক সমস্যার সঙ্গে পরিচিত তিনি।

মনিরা মিঠুর মতে, জীবনের কোনো পর্যায়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা কিংবা অসহনীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা একজন মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে সমু চৌধুরীর অসুস্থতা সম্পর্কে মনিরা মিঠুর এই বক্তব্য তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও দাবি। চিকিৎসকের মূল্যায়ন ছাড়া কারও মানসিক রোগ নির্ণয় করা যায় না।


সমু চৌধুরীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

অভিনেতার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মনিরা মিঠু প্রশ্ন তুলেছেন, সমু চৌধুরীর পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই কেন? তার মতে, এমন একজন আপন মানুষের প্রয়োজন, যিনি তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাবেন, কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করবেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণে সহায়তা করবেন।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘একজন সমু চৌধুরী কারোর যত্নে নাই, কারো মায়ায় নাই, এমন একটা আপন মানুষ নাই, যার কথায় উনি ডক্টরের কাছে যাবেন, কাউন্সেলিং করাবেন, প্রয়োজনে মেডিসিন খাবেন এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়ে নিবিড় পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণে থাকবেন। কেউ কি নাই? এই সাধুকে অমানুষদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য?’

তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমু চৌধুরীর প্রতি সহমর্মিতা দেখানোর পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মনিরা মিঠু।


যেভাবে অভিনয়ে পরিচিতি পান সমু চৌধুরী

যশোরে ছাত্রজীবন থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সমু চৌধুরী। যশোর উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর হয়ে টানা ১০ বছর পথনাটক, মঞ্চনাটক ও গণসংগীতে অংশ নেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ঢাকা উদীচী, ঢাকা থিয়েটার ও নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হন।

১৯৯০ সালে আতিকুল হক চৌধুরীর ‘সমৃদ্ধ অসীম’ নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশন নাটকে অভিষেক হয় তার। এরপর ‘জন্মভূমি’, ‘সাতপৌরে কাব্য’, ‘এই সময়ের গল্প’, ‘জিনের বাদশা’, ‘সোনালী রোদ্দুর’, ‘এবং আমি’, ‘সবুজের হলুদ ব্যাধি’ ও ‘দূরের আকাশ’-এর মতো নাটকে অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি।

টেলিভিশনের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন সমু চৌধুরী। তার অভিনীত সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘আদরের সন্তান’, ‘নদীর নাম মধুমতী’, ‘দোলন চাঁপা’, ‘শত জনমের প্রেম’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘দেশ দরদি’, ‘মরণ নিয়ে খেলা’, ‘প্রেমের নাম বেদনা’, ‘যাবি কই’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘জুম্মন কসাই’, ‘হৃদয় থেকে পাওয়া’ ও ‘গলুই’।

একসময় অভিনয় দিয়ে দর্শকের ভালোবাসা পাওয়া এই শিল্পীর বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে নিয়ে উপহাস না করে সহমর্মিতা দেখানো এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবর্তন সংবাদ/এসআর

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

‘পাগল’ নন সমু চৌধুরী, কোন অসুস্থতার কথা জানালেন মনিরা মিঠু?
0:00 0:00
1.0x
দৈনিক পরিবর্তন সংবাদ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


‘পাগল’ নন সমু চৌধুরী, কোন অসুস্থতার কথা জানালেন মনিরা মিঠু?

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

একসময় টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন অভিনেতা সমু চৌধুরী। তবে সময়ের ব্যবধানে তার বর্তমান জীবনযাপনের কিছু দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। কেউ তাকে নিয়ে কটূক্তি করছেন, আবার কেউ তার পরিস্থিতি দেখে প্রকাশ করছেন আক্ষেপ। এমন পরিস্থিতিতে এই অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়ে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী মনিরা মিঠু। তার দাবি, সমু চৌধুরী বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত।


সম্প্রতি ফেসবুকে সমু চৌধুরীর একটি ছবি প্রকাশ করে দীর্ঘ একটি পোস্ট দেন মনিরা মিঠু। সেখানে অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবন, পরিবারের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিঃসঙ্গতা ও অসুস্থতা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে সমু চৌধুরীকে ‘পাগল’ কিংবা ‘নেশাখোর’ বলে আখ্যা দেওয়ার বিরোধিতা করেন এই অভিনেত্রী।


সমু চৌধুরীর অসুস্থতা নিয়ে যা বললেন মনিরা মিঠু


ফেসবুক পোস্টে মনিরা মিঠু লেখেন, ‘আহারে শিল্পী, কত একা আপনি। অভিনেতা সমু চৌধুরী লোকজনের কাছে আজ পাগল, নেশাখোর। এই গুণী মানুষটি আসলে বাই পোলার পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারের পেশেন্ট। এই অসুখে যে উনি আক্রান্ত, এই বিষয়ে একদম পরিষ্কার ধারণা আমার আছে।’


পরিবারে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, এরপর বদলে যায় জীবন


সমু চৌধুরীর জীবনের এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মনিরা মিঠু। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় সমু চৌধুরীর আপন ভাই-বোনসহ পরিবারের পাঁচ থেকে ছয়জন সদস্য মারা যান। বর্তমানে তার বৃদ্ধা মা বেঁচে আছেন। ওই দুর্ঘটনার আগে অভিনয়ে সক্রিয় থাকলেও মর্মান্তিক ঘটনার পর দীর্ঘ সময় আড়ালে চলে যান এই অভিনেতা।


মনিরা মিঠু জানান, কয়েক বছর পর আবার অভিনয়ে ফিরলেও সমু চৌধুরী বিয়ে করেননি। মায়ের নিঃসঙ্গতার কথা ভেবেই তিনি নিজের সংসার না গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন অভিনেত্রী।


এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমু চৌধুরী ভাবতেন, বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লে তার মা একা হয়ে যাবেন। মায়ের কথা চিন্তা করেই তিনি একাকিত্বকে বেছে নিয়েছিলেন বলে জানান মনিরা মিঠু।


শুটিং সেটে আচরণে পরিবর্তন


সমু চৌধুরীর সঙ্গে একাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন মনিরা মিঠু। দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সূত্রে তার ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক চর্চা সম্পর্কে ধারণা রয়েছে বলে জানান তিনি। সমু চৌধুরীকে অভিযোগহীন ও নির্ভেজাল ভালো মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে তার দর্শনচর্চা ও কবিতা আবৃত্তির প্রশংসাও করেন এই অভিনেত্রী।


তবে প্রায় দুই বছর আগে সমু চৌধুরীর আচরণে কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ করেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেছেন মনিরা মিঠু। তার বর্ণনা অনুযায়ী, শুটিং সেটে এসে সমু চৌধুরী অনর্গল কথা বলতেন, নাচতেন এবং বিখ্যাত মঞ্চনাটকের সংলাপ উচ্চস্বরে আবৃত্তি করতেন।


এ সময় তার আচরণ নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা হতো। কেউ কেউ তার এই অবস্থাকে মাদক গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত করলেও মনিরা মিঠুর ধারণা ছিল, এর পেছনে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা থাকতে পারে।


মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানালেন


নিজের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের এমন অসুস্থতার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন মনিরা মিঠু। তার চাচি ও মেজো ভাইয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের মানসিক সমস্যার সঙ্গে পরিচিত তিনি।


মনিরা মিঠুর মতে, জীবনের কোনো পর্যায়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা কিংবা অসহনীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা একজন মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।


তবে সমু চৌধুরীর অসুস্থতা সম্পর্কে মনিরা মিঠুর এই বক্তব্য তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও দাবি। চিকিৎসকের মূল্যায়ন ছাড়া কারও মানসিক রোগ নির্ণয় করা যায় না।


সমু চৌধুরীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান


অভিনেতার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মনিরা মিঠু প্রশ্ন তুলেছেন, সমু চৌধুরীর পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই কেন? তার মতে, এমন একজন আপন মানুষের প্রয়োজন, যিনি তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাবেন, কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করবেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণে সহায়তা করবেন।


পোস্টে তিনি লেখেন, ‘একজন সমু চৌধুরী কারোর যত্নে নাই, কারো মায়ায় নাই, এমন একটা আপন মানুষ নাই, যার কথায় উনি ডক্টরের কাছে যাবেন, কাউন্সেলিং করাবেন, প্রয়োজনে মেডিসিন খাবেন এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়ে নিবিড় পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণে থাকবেন। কেউ কি নাই? এই সাধুকে অমানুষদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য?’


তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমু চৌধুরীর প্রতি সহমর্মিতা দেখানোর পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মনিরা মিঠু।


যেভাবে অভিনয়ে পরিচিতি পান সমু চৌধুরী


যশোরে ছাত্রজীবন থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সমু চৌধুরী। যশোর উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর হয়ে টানা ১০ বছর পথনাটক, মঞ্চনাটক ও গণসংগীতে অংশ নেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ঢাকা উদীচী, ঢাকা থিয়েটার ও নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হন।


১৯৯০ সালে আতিকুল হক চৌধুরীর ‘সমৃদ্ধ অসীম’ নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশন নাটকে অভিষেক হয় তার। এরপর ‘জন্মভূমি’, ‘সাতপৌরে কাব্য’, ‘এই সময়ের গল্প’, ‘জিনের বাদশা’, ‘সোনালী রোদ্দুর’, ‘এবং আমি’, ‘সবুজের হলুদ ব্যাধি’ ও ‘দূরের আকাশ’-এর মতো নাটকে অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি।


টেলিভিশনের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন সমু চৌধুরী। তার অভিনীত সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘আদরের সন্তান’, ‘নদীর নাম মধুমতী’, ‘দোলন চাঁপা’, ‘শত জনমের প্রেম’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘দেশ দরদি’, ‘মরণ নিয়ে খেলা’, ‘প্রেমের নাম বেদনা’, ‘যাবি কই’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘জুম্মন কসাই’, ‘হৃদয় থেকে পাওয়া’ ও ‘গলুই’।


একসময় অভিনয় দিয়ে দর্শকের ভালোবাসা পাওয়া এই শিল্পীর বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে নিয়ে উপহাস না করে সহমর্মিতা দেখানো এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবর্তন সংবাদ/এসআর


দৈনিক পরিবর্তন সংবাদ

উপদেষ্টা সম্পাদক: গোলাম আকবর খন্দকার (সাবেক এমপি)
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: লেঃ কর্নেল এ কে এম রশিদুন্নবী,পিএসসি ( অবঃ)
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শাহাদাৎ হোসেন

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত