দৈনিক পরিবর্তন সংবাদ
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

বয়স নয়, মানসিক পরিপক্বতাকেই গুরুত্ব অভিনেত্রীর

বিয়ে নিয়ে কী ভাবছেন নুসরাত ফারিয়া?

বিয়ে নিয়ে কী ভাবছেন নুসরাত ফারিয়া?

বিয়ে নিয়ে নিজের ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ঢালিউড অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। তাঁর মতে, বিয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সের চেয়ে মানসিক পরিপক্বতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সংসার জীবনে সুখী হতে ধৈর্য, বুদ্ধিমত্তা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার প্রয়োজন। জীবনে থিতু হওয়ার মানসিক প্রস্তুতি এলেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে চান এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিয়ে ও জীবনসঙ্গী নির্বাচন নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন নুসরাত ফারিয়া। জীবনের সেই মানসিক প্রস্তুতি শিগগিরই চলে আসবে বলে আশাবাদী তিনি।


বিয়ের জন্য প্রয়োজন মানসিক প্রস্তুতি

নুসরাত ফারিয়ার মতে, নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই বিয়ের জন্য বয়সের চেয়ে পরিপক্বতা বেশি জরুরি। একা জীবন কাটানো তুলনামূলক সহজ হলেও সংসার জীবনে নানা পরিস্থিতি সামাল দিতে ধৈর্য ও বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি দুজনের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকা এবং একে অপরকে ভালোভাবে চেনাও গুরুত্বপূর্ণ।

জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের অহংবোধ নিয়ন্ত্রণ করতে পারাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, সম্পর্ক সুন্দর রাখতে দুজনকেই একে অপরের মতামত ও অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।


সংসার করেও থেমে থাকবে না স্বপ্ন

বিয়ের পর নতুন কোনো লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তৈরি হলে জীবনসঙ্গীকে পাশে নিয়েই পথ চলতে চান নুসরাত। তাঁর ভাবনায়, বিয়ে মানেই নিজের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে বিসর্জন দেওয়া নয়। বরং দুজনের সহযোগিতায় নতুন লক্ষ্য অর্জন এবং একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই হতে পারে সংসার জীবনের সৌন্দর্য।


জীবনসঙ্গী হিসেবে বন্ধুকেই চান

জীবনসঙ্গী কেমন হওয়া উচিত—এমন প্রশ্নে বন্ধুত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন নুসরাত ফারিয়া। তাঁর মতে, দুজন মানুষের একে অপরকে ভালো লাগা, একসঙ্গে সময় কাটিয়ে আনন্দ পাওয়া এবং বন্ধুর মতো পাশে থাকার মানসিকতা থাকা জরুরি। শুধু ভালোবাসা নয়, দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের জন্য বন্ধুত্বও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অভিনেত্রীর ভাবনায়, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক পরিবর্তন আসবে। সন্তান বড় হয়ে একসময় নিজের মতো জীবন গড়ে নেবে। কিন্তু দিন শেষে জীবনসঙ্গী দুজনকেই একসঙ্গে পথ চলতে হবে। তাই এমন একজন মানুষকে বেছে নেওয়া জরুরি, যার সঙ্গে জীবনের দীর্ঘ সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্য ও আনন্দ অনুভব করা যায়।


সম্পর্কের চেয়ে সামাজিক চাপ বড় নয়

তারকাদের বিচ্ছেদ ও সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রসঙ্গেও নিজের মতামত জানিয়েছেন নুসরাত। তাঁর মতে, একসময় সমাজ কী বলবে, সেই আশঙ্কায় অনেকে অসুখী সম্পর্কেও থেকে যেতেন। এর প্রভাব পড়ত তাঁদের নিজেদের জীবন এবং সন্তানদের ওপরও।

তবে বর্তমানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে। মানুষ সম্পর্কের সমস্যা নিয়ে কথা বলছেন, প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিচ্ছেন এবং নিজেদের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। দুজন মানুষ একসঙ্গে সুখী না হলে কেবল সামাজিক চাপের কারণে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাকে বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন না অভিনেত্রী।

তবে মতের অমিল এবং অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া এক বিষয় নয় বলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। অন্যের ক্ষতি না করে নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার প্রত্যেকের রয়েছে। সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করার মানসিকতাও সমাজের মধ্যে থাকা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে নুসরাত ফারিয়ার বক্তব্যে স্পষ্ট, তাঁর কাছে বিয়ে কেবল সামাজিক নিয়ম মেনে চলার বিষয় নয়। মানসিক প্রস্তুতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব এবং একসঙ্গে জীবন কাটানোর ইচ্ছাকেই একটি সুন্দর ও স্থায়ী সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে দেখেন এই অভিনেত্রী।

পরিবর্তন সংবাদ/এসআর

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

বিয়ে নিয়ে কী ভাবছেন নুসরাত ফারিয়া?
0:00 0:00
1.0x
দৈনিক পরিবর্তন সংবাদ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


বিয়ে নিয়ে কী ভাবছেন নুসরাত ফারিয়া?

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বিয়ে নিয়ে নিজের ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ঢালিউড অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। তাঁর মতে, বিয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সের চেয়ে মানসিক পরিপক্বতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সংসার জীবনে সুখী হতে ধৈর্য, বুদ্ধিমত্তা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার প্রয়োজন। জীবনে থিতু হওয়ার মানসিক প্রস্তুতি এলেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে চান এই অভিনেত্রী।


সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিয়ে ও জীবনসঙ্গী নির্বাচন নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন নুসরাত ফারিয়া। জীবনের সেই মানসিক প্রস্তুতি শিগগিরই চলে আসবে বলে আশাবাদী তিনি।


বিয়ের জন্য প্রয়োজন মানসিক প্রস্তুতি


নুসরাত ফারিয়ার মতে, নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই বিয়ের জন্য বয়সের চেয়ে পরিপক্বতা বেশি জরুরি। একা জীবন কাটানো তুলনামূলক সহজ হলেও সংসার জীবনে নানা পরিস্থিতি সামাল দিতে ধৈর্য ও বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি দুজনের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকা এবং একে অপরকে ভালোভাবে চেনাও গুরুত্বপূর্ণ।


জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের অহংবোধ নিয়ন্ত্রণ করতে পারাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, সম্পর্ক সুন্দর রাখতে দুজনকেই একে অপরের মতামত ও অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।


সংসার করেও থেমে থাকবে না স্বপ্ন


বিয়ের পর নতুন কোনো লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তৈরি হলে জীবনসঙ্গীকে পাশে নিয়েই পথ চলতে চান নুসরাত। তাঁর ভাবনায়, বিয়ে মানেই নিজের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে বিসর্জন দেওয়া নয়। বরং দুজনের সহযোগিতায় নতুন লক্ষ্য অর্জন এবং একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই হতে পারে সংসার জীবনের সৌন্দর্য।


জীবনসঙ্গী হিসেবে বন্ধুকেই চান


জীবনসঙ্গী কেমন হওয়া উচিত—এমন প্রশ্নে বন্ধুত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন নুসরাত ফারিয়া। তাঁর মতে, দুজন মানুষের একে অপরকে ভালো লাগা, একসঙ্গে সময় কাটিয়ে আনন্দ পাওয়া এবং বন্ধুর মতো পাশে থাকার মানসিকতা থাকা জরুরি। শুধু ভালোবাসা নয়, দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের জন্য বন্ধুত্বও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


অভিনেত্রীর ভাবনায়, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক পরিবর্তন আসবে। সন্তান বড় হয়ে একসময় নিজের মতো জীবন গড়ে নেবে। কিন্তু দিন শেষে জীবনসঙ্গী দুজনকেই একসঙ্গে পথ চলতে হবে। তাই এমন একজন মানুষকে বেছে নেওয়া জরুরি, যার সঙ্গে জীবনের দীর্ঘ সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্য ও আনন্দ অনুভব করা যায়।


সম্পর্কের চেয়ে সামাজিক চাপ বড় নয়


তারকাদের বিচ্ছেদ ও সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রসঙ্গেও নিজের মতামত জানিয়েছেন নুসরাত। তাঁর মতে, একসময় সমাজ কী বলবে, সেই আশঙ্কায় অনেকে অসুখী সম্পর্কেও থেকে যেতেন। এর প্রভাব পড়ত তাঁদের নিজেদের জীবন এবং সন্তানদের ওপরও।


তবে বর্তমানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে। মানুষ সম্পর্কের সমস্যা নিয়ে কথা বলছেন, প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিচ্ছেন এবং নিজেদের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। দুজন মানুষ একসঙ্গে সুখী না হলে কেবল সামাজিক চাপের কারণে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাকে বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন না অভিনেত্রী।


তবে মতের অমিল এবং অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া এক বিষয় নয় বলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। অন্যের ক্ষতি না করে নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার প্রত্যেকের রয়েছে। সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করার মানসিকতাও সমাজের মধ্যে থাকা প্রয়োজন।


সব মিলিয়ে নুসরাত ফারিয়ার বক্তব্যে স্পষ্ট, তাঁর কাছে বিয়ে কেবল সামাজিক নিয়ম মেনে চলার বিষয় নয়। মানসিক প্রস্তুতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব এবং একসঙ্গে জীবন কাটানোর ইচ্ছাকেই একটি সুন্দর ও স্থায়ী সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে দেখেন এই অভিনেত্রী।

পরিবর্তন সংবাদ/এসআর


দৈনিক পরিবর্তন সংবাদ

উপদেষ্টা সম্পাদক: গোলাম আকবর খন্দকার (সাবেক এমপি)
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: লেঃ কর্নেল এ কে এম রশিদুন্নবী,পিএসসি ( অবঃ)
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শাহাদাৎ হোসেন

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত