আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার ভারসাম্য রক্ষায় পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের হিনরিখ-আইএমডি সাসটেইনেবল ট্রেড ইনডেক্সে (এসটিআই) বিশ্বের ৩০টি অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৫তম। ১০০-এর মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ২২ দশমিক ২। এ তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও পাকিস্তানের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।
তিনটি প্রধান সূচকে মূল্যায়ন
হিনরিখ ফাউন্ডেশন ও আইএমডি ওয়ার্ল্ড কমপিটিটিভনেস সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এ সূচকে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত—এই তিনটি স্তম্ভের অধীনে ৭২টি নির্দেশক ব্যবহার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সামাজিক কল্যাণে ভূমিকা রাখছে, তা মূল্যায়ন করাই এ সূচকের মূল উদ্দেশ্য।
টেকসই বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুধু রপ্তানি আয় কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, বরং শ্রমিকদের কল্যাণ, সামাজিক অগ্রগতি এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়। এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত অগ্রগতি অর্জন একটি দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ায় এগিয়ে ভারত ও শ্রীলঙ্কা
সূচকের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান ২১তম। দেশটির স্কোর ৪৪ দশমিক ২। শ্রীলঙ্কা রয়েছে ২২তম স্থানে, তাদের স্কোর ৪৩ দশমিক ১। অন্যদিকে, বাংলাদেশের স্কোর ২২ দশমিক ২ হওয়ায় এ দুই দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে দেশটি।
তালিকায় পাকিস্তানের অবস্থান ২৬তম, স্কোর ১৬ দশমিক ৭। অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ার এই চারটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। বাংলাদেশের পর তালিকায় রয়েছে ব্রুনাই ২৭তম, মিয়ানমার ২৮তম, রাশিয়া ২৯তম এবং পাপুয়া নিউগিনি ৩০তম স্থানে। রাশিয়ার স্কোর ৪ দশমিক ৭ এবং পাপুয়া নিউগিনির স্কোর শূন্য।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোও এগিয়ে
এশিয়ার বেশ কয়েকটি অর্থনীতিও টেকসই বাণিজ্যের মূল্যায়নে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। মালয়েশিয়া ১১তম, থাইল্যান্ড ১৩তম, ভিয়েতনাম ১৪তম, কম্বোডিয়া ১৫তম এবং ইন্দোনেশিয়া ১৭তম স্থানে রয়েছে। চীনের অবস্থান ১৯তম, দেশটির স্কোর ৫১ দশমিক ৪।
এসব দেশের অবস্থান বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান ধরে রাখতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশগত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
শীর্ষে যুক্তরাজ্য, দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর
২০২৬ সালের সূচকে প্রথম স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির স্কোর ১০০। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিঙ্গাপুরের স্কোর ৯৭ দশমিক ৭ এবং তৃতীয় স্থানে থাকা নিউজিল্যান্ডের স্কোর ৯৫ দশমিক ১। চতুর্থ স্থানে হংকং এবং পঞ্চম স্থানে অস্ট্রেলিয়া রয়েছে।
তালিকার শীর্ষ ১০ অর্থনীতির মধ্যে এশিয়ার তাইওয়ান ষষ্ঠ, দক্ষিণ কোরিয়া সপ্তম এবং জাপান অষ্টম স্থানে রয়েছে। নবম স্থানে কানাডা এবং দশম স্থানে যুক্তরাষ্ট্র।
কয়েকটি দেশের অবস্থানের উন্নতি
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় এক ধাপ এগিয়ে যুক্তরাজ্য এবার শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া ও শ্রীলঙ্কা আগের মূল্যায়নের তুলনায় চার ধাপ করে এগিয়েছে।
সামগ্রিক চিত্রে দেখা যায়, টেকসই বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশের স্কোর ও অবস্থান বলছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদার করতে এই তিনটি ক্ষেত্রের মধ্যে কার্যকর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন।
পরিবর্তন সংবাদ/এসআর

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার ভারসাম্য রক্ষায় পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের হিনরিখ-আইএমডি সাসটেইনেবল ট্রেড ইনডেক্সে (এসটিআই) বিশ্বের ৩০টি অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৫তম। ১০০-এর মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ২২ দশমিক ২। এ তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও পাকিস্তানের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।
তিনটি প্রধান সূচকে মূল্যায়ন
হিনরিখ ফাউন্ডেশন ও আইএমডি ওয়ার্ল্ড কমপিটিটিভনেস সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এ সূচকে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত—এই তিনটি স্তম্ভের অধীনে ৭২টি নির্দেশক ব্যবহার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সামাজিক কল্যাণে ভূমিকা রাখছে, তা মূল্যায়ন করাই এ সূচকের মূল উদ্দেশ্য।
টেকসই বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুধু রপ্তানি আয় কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, বরং শ্রমিকদের কল্যাণ, সামাজিক অগ্রগতি এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়। এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত অগ্রগতি অর্জন একটি দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ায় এগিয়ে ভারত ও শ্রীলঙ্কা
সূচকের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান ২১তম। দেশটির স্কোর ৪৪ দশমিক ২। শ্রীলঙ্কা রয়েছে ২২তম স্থানে, তাদের স্কোর ৪৩ দশমিক ১। অন্যদিকে, বাংলাদেশের স্কোর ২২ দশমিক ২ হওয়ায় এ দুই দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে দেশটি।
তালিকায় পাকিস্তানের অবস্থান ২৬তম, স্কোর ১৬ দশমিক ৭। অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ার এই চারটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। বাংলাদেশের পর তালিকায় রয়েছে ব্রুনাই ২৭তম, মিয়ানমার ২৮তম, রাশিয়া ২৯তম এবং পাপুয়া নিউগিনি ৩০তম স্থানে। রাশিয়ার স্কোর ৪ দশমিক ৭ এবং পাপুয়া নিউগিনির স্কোর শূন্য।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোও এগিয়ে
এশিয়ার বেশ কয়েকটি অর্থনীতিও টেকসই বাণিজ্যের মূল্যায়নে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। মালয়েশিয়া ১১তম, থাইল্যান্ড ১৩তম, ভিয়েতনাম ১৪তম, কম্বোডিয়া ১৫তম এবং ইন্দোনেশিয়া ১৭তম স্থানে রয়েছে। চীনের অবস্থান ১৯তম, দেশটির স্কোর ৫১ দশমিক ৪।
এসব দেশের অবস্থান বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান ধরে রাখতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশগত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
শীর্ষে যুক্তরাজ্য, দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর
২০২৬ সালের সূচকে প্রথম স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির স্কোর ১০০। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিঙ্গাপুরের স্কোর ৯৭ দশমিক ৭ এবং তৃতীয় স্থানে থাকা নিউজিল্যান্ডের স্কোর ৯৫ দশমিক ১। চতুর্থ স্থানে হংকং এবং পঞ্চম স্থানে অস্ট্রেলিয়া রয়েছে।
তালিকার শীর্ষ ১০ অর্থনীতির মধ্যে এশিয়ার তাইওয়ান ষষ্ঠ, দক্ষিণ কোরিয়া সপ্তম এবং জাপান অষ্টম স্থানে রয়েছে। নবম স্থানে কানাডা এবং দশম স্থানে যুক্তরাষ্ট্র।
কয়েকটি দেশের অবস্থানের উন্নতি
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় এক ধাপ এগিয়ে যুক্তরাজ্য এবার শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া ও শ্রীলঙ্কা আগের মূল্যায়নের তুলনায় চার ধাপ করে এগিয়েছে।
সামগ্রিক চিত্রে দেখা যায়, টেকসই বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশের স্কোর ও অবস্থান বলছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদার করতে এই তিনটি ক্ষেত্রের মধ্যে কার্যকর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন।
পরিবর্তন সংবাদ/এসআর

মতামত