ঈদকে সামনে রেখে স্বল্প খরচে বাড়ি ফেরার আশায় রডবোঝাই ট্রাকে উঠেছিলেন কয়েকজন শ্রমজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাতে হয়েছে তাঁদের অনেককে। টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
সোমবার (২৫ মে) ভোরে যমুনা সেতুর পূর্ব সংযোগ সড়কের সরাতৈল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের অনেকেই ছিলেন ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফেরা মানুষ।
দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া তরিকুল ইসলাম জানান, তিনি চট্টগ্রাম থেকে শ্যালক নজরুল ইসলাম ও ভাগনে তুহিনকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। কম ভাড়ায় যাতায়াতের জন্য তাঁরা রডবাহী ট্রাকে ওঠেন। তবে ভোরের দুর্ঘটনায় নজরুল ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং তুহিন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।
তরিকুলের ভাষায়, পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করছিলেন তাঁরা দুপুরের মধ্যে বাড়ি পৌঁছাবেন। কিন্তু বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভিন্ন—একজনের মরদেহ মর্গে, আরেকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জানা গেছে, তরিকুল ও তাঁর সঙ্গীরা চট্টগ্রামে বিভিন্ন তৈজসপত্রের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জনপ্রতি স্বল্প ভাড়ায় রাজশাহীগামী ওই ট্রাকে যাত্রা শুরু করেন তাঁরা। পথে আরও কয়েকজন যাত্রী ট্রাকে ওঠেন।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত যাত্রী খোরশেদ আলম বলেন, গভীর রাতে ঢাকা পার হওয়ার পর ট্রাকে থাকা বেশির ভাগ যাত্রী ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎ একটি তীব্র ঝাঁকুনির পর ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়। পরে দেখা যায়, অনেকেই ট্রাকের রডের নিচে চাপা পড়ে আহত বা নিহত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। তাঁদের বাড়ি নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। বাকিদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে।
যমুনা সেতুর পূর্ব থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ যাত্রী ছিলেন শ্রমজীবী ও ছোট ব্যবসায়ী। কম খরচে গন্তব্যে পৌঁছাতে ঝুঁকি নিয়েই তাঁরা পণ্যবাহী ট্রাকে উঠেছিলেন।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব বলেন, ট্রাকটিতে রডের ওপর ত্রিপল টানিয়ে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন :