অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে একটি সীমিত পরিসরের গোষ্ঠী বা ‘কিচেন কেবিনেট’ সক্রিয় ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তাঁর দাবি, সাত সদস্যের একটি প্রভাবশালী দল নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত দিত এবং সেই মতামত নীতিনির্ধারণে গুরুত্ব পেত।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তৌহিদ হোসেন জানান, সরকারে দায়িত্ব পালনের সময় নিজের মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায়ও বাইরের প্রভাব ছিল। এ কারণে তিনি একাধিকবার দায়িত্ব ছাড়ার চিন্তা করেছিলেন। তবে সরকারের স্বার্থ বিবেচনায় তাঁকে দায়িত্বে থাকার অনুরোধ জানানো হয়।
তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ে কিছু ব্যক্তির মতামতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো। যদিও তাঁদের অনেকের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সীমিত ছিল, তবুও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের উপস্থিতি প্রভাব ফেলত।
তৌহিদ হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একবার বিশেষ একটি বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর জানতে পারেন, প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিতভাবে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো। পরে সরকারের অভ্যন্তরে এমন আলোচনা শোনা যায় যে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ওই বৈঠক থেকেই আসত।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘ডিপ স্টেট’–এর ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তনে প্রভাবশালী শক্তিগুলোর ভূমিকা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এসব শক্তি সাধারণত পরিস্থিতির স্রোতের বিপরীতে না গিয়ে পরে তা নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।
নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, ওই প্রক্রিয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তাঁর মতে, এমন সিদ্ধান্ত নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া অধিক যুক্তিসঙ্গত হতে পারত।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। দিল্লিতে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হলেও বিষয়টি বাস্তবায়ন কঠিন হবে—এমন ধারণা আগে থেকেই ছিল বলে জানান তৌহিদ হোসেন।
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মূল্যায়নে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ পুরোপুরি রাজনীতির বাইরে চলে যাবে—এমনটা তিনি মনে করেন না। সময়ের সঙ্গে দলটি আবারও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় হতে পারে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
অন্যদিকে বর্তমান সরকারের মূল্যায়নে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করতে নারাজ এই কূটনীতিক। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো শক্তিধর দেশের সঙ্গে সম্পর্ক সামলানো—বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন :