ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের নিশ্চয়তা ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক নয়, সৌদির অবস্থান অপরিবর্তিত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৬, ১০:০৮ রাত

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট অগ্রগতি ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না সৌদি আরব—এমন অবস্থান আবারও পরিষ্কার করেছে দেশটি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আহ্বান সত্ত্বেও এ বিষয়ে রিয়াদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে সম্ভাব্য কোনো চুক্তি হলেও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি নির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য পথ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপনে রাজি নয়।

সৌদি ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ফিলিস্তিন প্রশ্নে রিয়াদের নীতি আগের মতোই বহাল রয়েছে। ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং একটি কার্যকর রাজনৈতিক সমাধানকে সৌদি আরব এখনও অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

এ অবস্থান সামনে এসেছে এমন সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতি ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ইরান–সংকট নিরসনে একটি বড় আঞ্চলিক সমঝোতার অংশ হিসেবে আরও দেশকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে।

ট্রাম্প সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা ব্যর্থ হলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। তবে সৌদি আরব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সেই প্রক্রিয়ায় যোগ দেয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজা পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে আরব জনগণের আবেগ ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সৌদি আরব সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রেখেছে। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো বৃহৎ সমঝোতায় ফিলিস্তিন প্রশ্ন এখনো একটি কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবেই রয়ে গেছে।

Link copied!