কুমিল্লার বুড়িচংয়ে তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যক্তিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মঙ্গলবার (১৯ মে) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১ সিপিসি-২-এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি অধিনায়ক সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মিঠুন কুমার কুন্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
র্যাব জানায়, নিহত এনামুল হক শিশির ওরফে মাহি দীর্ঘদিন ধরে বুড়িচং সদর ইউনিয়নের একটি এলাকায় অন্য কয়েকজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তির সঙ্গে বসবাস করতেন। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে মাদক ব্যবসার আধিপত্য ও ভাগ–বাটোয়ারা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
এ ঘটনার প্রধান আসামি তৃতীয় লিঙ্গের জহির ইসলাম ওরফে আপন ওরফে জহিরকে সোমবার রাতে সাতক্ষীরার ভোমরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-৬-এর সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জহির জানিয়েছেন, মাদক ব্যবসা–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মাহিকে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে এ ঘটনায় দোলা নামে আরও এক তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে সকালে বুড়িচং পৌরসভার মধ্যবাজার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে মাহির সঙ্গে কয়েকজনের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তার শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা কামরুল হক ফরহাদ বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :