ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

রেকর্ড ৬৮ আসনেও সন্তুষ্ট নয় জামায়াত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৬ দুপুর

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৬৮টি আসন জিতে সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে অবস্থান নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জোটগত হিসেবে ১১ দলীয় ঐক্যের মাধ্যমে তাদের আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭-এ। তবে রেকর্ডসংখ্যক আসন পেয়েও দলটি পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। অন্তত ৩০টি আসনে ভোট গণনায় অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে তারা।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ভোটে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে নির্বাচন হয়। বেসরকারি ফল অনুযায়ী, এককভাবে ৬৮ আসনে জয় পায় জামায়াত। অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবে ২০৯টি এবং জোটগতভাবে ২১২টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠনের পথে রয়েছে।

অতীতের তুলনায় বড় উত্থান

১৯৯৬ সালে এককভাবে নির্বাচন করে জামায়াত পেয়েছিল ৩টি আসন। ২০০১ সালে ১৭টি এবং ২০০৮ সালে মাত্র ২টি আসনে জয় পায় দলটি। এবারের নির্বাচনে ঢাকার ১৫টি আসনের মধ্যে ৬টিতে জয় তাদের জন্য নতুন মাইলফলক।

উত্তরাঞ্চলে দলটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পেয়েছে তারা। খুলনা বিভাগেও বড় সাফল্য এসেছে। তবে নোয়াখালী–চট্টগ্রাম অঞ্চল এবং বৃহত্তর ঢাকার কিছু এলাকায় প্রত্যাশিত ফল পায়নি দলটি। সিলেটে জোটের শরিক খেলাফত মজলিশ একটি আসনে জয় পেয়েছে।

দুই জ্যেষ্ঠ নেতার পরাজয়

দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা-৫ আসনে এবং সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ কক্সবাজার-২ আসনে জয়ী হতে পারেননি। তাদের পরাজয় দলীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

৩০ আসনে কারচুপির অভিযোগ

রাজধানীতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের অভিযোগ করেন, অন্তত ৩০টি আসনে ভোট গণনায় অনিয়ম হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে ফল প্রকাশে বিলম্ব, পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর ছাড়া ফল ঘোষণা, ভুয়া স্বাক্ষর ও পেন্সিল দিয়ে ফল লেখার মতো অভিযোগ তুলে তিনি পুনর্গণনার দাবি জানান।

দলটির দাবি, এসব আসনে জয়ের ব্যবধান ছিল এক থেকে দশ হাজার ভোটের মধ্যে। সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করা হলেও অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে জামায়াত।

ভেতরের মূল্যায়ন

দলটির একাধিক নেতা-কর্মী মনে করছেন, সাংগঠনিক শক্তি বাড়লেও নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি ছিল। মাঠপর্যায়ে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক যোগাযোগ রক্ষা এবং ফল ঘোষণার সময় তদারকি জোরদার করতে না পারাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন তারা।

সব মিলিয়ে, রেকর্ডসংখ্যক আসন অর্জন রাজনৈতিকভাবে বড় সাফল্য হলেও অভিযোগ ও অসন্তোষের কারণে নির্বাচনের ফল পুরোপুরি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বলে মনে করছে দলটি।

Link copied!