সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের বরণ করে নিতে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ সচিবালয়-এ। দায়িত্ব গ্রহণের আগেই সচিবালয়ের বিভিন্ন ভবন ও কক্ষে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সংস্কার ও সাজসজ্জার কাজ। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দেখা গেছে বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য।
মন্ত্রী কক্ষ সাজাতে ব্যস্ততা
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ের একাধিক মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখা যায়, মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত কক্ষগুলো নতুনভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। গণপূর্ত বিভাগের কর্মীরা পুরোনো আসবাব সরানো, লাইট ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র মেরামত কিংবা পরিবর্তন এবং রং-রোগানের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নামফলক অপসারণ করে নতুন মন্ত্রীদের নামফলক বসানোর প্রস্তুতিও চলছে। বারান্দা ও করিডোরে সাজানো হচ্ছে ফুলের টব। সংশ্লিষ্ট এক প্রকৌশলী জানান, নতুন মন্ত্রীরা দায়িত্ব নিতে এলে যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সে লক্ষ্যেই সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সংসদ ভবনে শপথ আয়োজন
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রচলিতভাবে এ ধরনের অনুষ্ঠান বঙ্গভবন-এ অনুষ্ঠিত হলেও এবার ভিন্ন ব্যবস্থায় সংসদ এলাকায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন। অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-এর সচিব।
এ ছাড়া একই দিন সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ নেবেন বলে জানা গেছে।
পদায়ন নিয়ে কৌতূহল
কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন—এ নিয়ে সচিবালয়ে চলছে জোর আলোচনা। অনেকেই সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নাম ও বানান নিয়ে আগ্রহী। এক সচিব বলেন, নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালনে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি পরিবহন পুল থেকে নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য প্রায় ৫০টি গাড়ি ও চালক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে কোন মন্ত্রী কোন গাড়ি ব্যবহার করবেন, তা শপথের দিন চূড়ান্ত হবে।
নিরাপত্তা জোরদার
নতুন মন্ত্রীদের আগমন ঘিরে সচিবালয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, স্বাভাবিক নিয়মে অনুমোদিত স্টিকার ছাড়া কোনো যানবাহন সচিবালয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। দায়িত্ব গ্রহণের দিন যাতে ভেতরে-বাইরে যানজট না হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
দীর্ঘ সময় পর নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে—এ খবরে সচিবালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ নতুন সরকারের সঙ্গে কাজের সুযোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
পুনর্গঠনের প্রস্তুতি
সূত্র জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর একনেকসহ অর্থনৈতিক, ক্রয়, আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য মন্ত্রিসভা কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিএস, এপিএস) নিয়োগ এবং আনুষঙ্গিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্নের প্রস্তুতি চলছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন তারেক রহমান। তাঁর নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে প্রশাসনে নীতি-নির্ধারণ ও কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

আপনার মতামত লিখুন :