ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২৯৭টি আসনের ঘোষিত ফলাফলে দলটি ও তাদের মিত্ররা পেয়েছে ২১২টি আসন। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছেন।
তবে বিজয়ী দলের উচ্ছ্বাসের বিপরীতে দেশের বিভিন্ন জেলায় বড় সংখ্যক প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, মোট বৈধ ভোটের অন্তত এক অষ্টমাংশ (১২ দশমিক ৫ শতাংশ) ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
গাইবান্ধায় একাধিক ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীর ভরাডুবি
গাইবান্ধার পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৪০ প্রার্থীর মধ্যে ২৬ জন জামানত হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন জাতীয় পার্টি-এর মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। গাইবান্ধা-৫ আসনে লাঙ্গল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৩৭৫ ভোট। ওই আসনে মোট বৈধ ভোট ছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ২৫২। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল ২৬ হাজার ৬৫৬ ভোট।
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জেও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম মাত্র ১ হাজার ৭১৯ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় বড় সংখ্যা
চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ঘোষিত ১৪টি আসনে ৫৯ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রায় ৬০ শতাংশ প্রয়োজনীয় ভোট পাননি।
কুমিল্লার ১১টি আসনে ৮৩ প্রার্থীর মধ্যে ৫৭ জন জামানত হারিয়েছেন। সেখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কোনো প্রার্থী জামানত রক্ষা করতে পারেননি।
পার্বত্য ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একই চিত্র
খাগড়াছড়ির একমাত্র আসনে ১১ প্রার্থীর মধ্যে সাতজন জামানত হারিয়েছেন। খুলনার ছয়টি আসনে ২৬ জন এবং যশোরের ছয়টি আসনে ২৪ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। যশোরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি ছাড়া অন্য প্রায় সব দলের প্রার্থীরাই প্রয়োজনীয় ভোট পাননি।
বাগেরহাটের চারটি আসনে ২৩ প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জন জামানত হারিয়েছেন। তালিকায় সাবেক সংসদ সদস্য ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও রয়েছেন।
উত্তরাঞ্চলে নারী প্রার্থীদের হতাশা
রংপুর বিভাগের আট জেলার ৩৩টি আসনে লড়েছেন ৯ জন নারী প্রার্থী। তাঁদের কেউই জামানত রক্ষা করতে পারেননি। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নারী প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রাপ্ত ভোট ২ হাজার ৮৭৬ এবং সর্বনিম্ন ১৫৩।
রাজশাহী, সিলেট ও সিরাজগঞ্জেও ব্যাপক বাজেয়াপ্ত
রাজশাহীর ছয়টি আসনে মোট ৩২ প্রার্থীর মধ্যে ২০ জন জামানত হারিয়েছেন। সিলেটের ছয় আসনে ৩৩ প্রার্থীর মধ্যে ২০ জন প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত ফেরত পাবেন না। সিরাজগঞ্জের ছয় আসনে ৩৯ প্রার্থীর মধ্যে ২৭ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
মাদারীপুরের তিনটি আসনে ২৫ প্রার্থীর মধ্যে ১৭ জন এবং জামালপুরের পাঁচটি আসনে ৩৪ প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জন জামানত হারিয়েছেন। ঠাকুরগাঁওয়ে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২০ প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে, যাঁদের মধ্যে সাবেক দুই সংসদ সদস্যও রয়েছেন।
নির্বাচনী বাস্তবতা
বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক আসনে মূল লড়াই হয়েছে দুই বা তিন প্রধান দলের প্রার্থীর মধ্যে। ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অনেকেই উল্লেখযোগ্য ভোট টানতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে বড় ব্যবধানে জামানত বাজেয়াপ্তের ঘটনা ঘটেছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিধান অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :