সারিকাইত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বেহাল দশা, ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২ ঘণ্টা আগে

সন্দ্বীপে ‘সন্দ্বীপ সাহিত্য’র দ্বিতীয় সংখ্যার প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত ১৯ ঘণ্টা আগে

সন্দ্বীপে সীরাতুন্নবী সা. অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত, অংশ নেয় ২ হাজার ৩৮৬ শিক্ষার্থী, চার কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা, উপস্থিতির হার ৯৫ শতাংশের বেশি ১৯ ঘণ্টা আগে

সন্দ্বীপে মাহফুজ-সুফিয়া ফাউন্ডেশনের ইংলিশ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত, ৭১৫ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ, ইংরেজি ভীতি দূর করাই মূল লক্ষ্য ৩১ অক্টোবর ২০২৬

সন্দ্বীপে রহমতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যােগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও র‍্যালি ২৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক পরিবর্তন সংবাদ

সারিকাইত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বেহাল দশা, ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

সারিকাইত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বেহাল দশা, ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
সারিকাইত ইউনিয়ন পরিষদ ভবন

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সারিকাইত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে। ছাদ থেকে বড় বড় আস্তর ভেঙে পড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভবনটির একাধিক অংশ। এতে আতঙ্কের মধ্যে অফিস করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পাশাপাশি পরিষদে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও রয়েছেন দুর্ঘটনার আশঙ্কায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বি.এ ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। নির্মাণকাজ চলাকালীন এবং উদ্বোধনের সময় সারিকাইত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফিরোজ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে এবং সৌহার্দ্য কর্মসূচির আওতায় ইউএসএআইডি (USAID) ও কেয়ার (CARE)-এর অর্থায়নে ভবনটি নির্মিত হয়। উদ্বোধনের মাত্র ১৬ বছরের মাথায় ভবনটির এমন ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছানো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের দরবার কক্ষের অবস্থা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। কক্ষটির ছাদ থেকে বড় বড় পলেস্তারা খসে পড়ছে। এ অবস্থায় সেখানে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ দরবার কক্ষে গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সেখানে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে, ফলে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন বিচারপ্রার্থী ও সেবাপ্রত্যাশীরা।

পরিষদ ভবনটি স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র। জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা গ্রহণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রতিদিনই মানুষকে এ ভবনে আসতে হয়। কিন্তু ভবনের এমন অবস্থা স্বাভাবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

জানা গেছে, ভবনটির নির্মাণকাজের দায়িত্বে ছিলেন ঠিকাদার মনির তালুকদার। নির্মাণকাজ শুরুর ১৮ বছরের মধ্যে এবং উদ্বোধনের ১৬ বছরের মাথায় ভবনটির এমন অবনতি কেন হলো, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। নির্মাণে ব্যবহৃত সামগ্রীর মান, কাজের গুণগত মান কিংবা পরবর্তী সময়ে রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি—কোন বিষয়টি এর জন্য দায়ী, তা নির্ধারণে প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারিগরি পরীক্ষা ও তদন্ত।

সারিকাইত ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাবেদ হোসাইন বলেন, ঝুঁকি নিয়েই প্রতিনিয়ত তাঁদের অফিসের কাজ করতে হচ্ছে। ভবনটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, ভূমিকম্প কিংবা বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগ দেখা দিলে ভবনটি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার পরিবর্তে উল্টো ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

তিনি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ভবনটির কারিগরি পরিদর্শন, ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করার প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবনটির দ্রুত কারিগরি মূল্যায়ন জরুরি। পরিদর্শনে ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী বা বিপজ্জনক বলে প্রতীয়মান হলে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ, ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষের ব্যবহার বন্ধ এবং বিকল্প স্থানে দাপ্তরিক ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভবনটির নির্মাণসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করে অবনতির প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করাও জরুরি।

সারিকাইত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে—এমনটাই আশা করছেন তাঁরা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

সারিকাইত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বেহাল দশা, ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
0:00 0:00
1.0x
দৈনিক পরিবর্তন সংবাদ

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


সারিকাইত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বেহাল দশা, ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সারিকাইত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে। ছাদ থেকে বড় বড় আস্তর ভেঙে পড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভবনটির একাধিক অংশ। এতে আতঙ্কের মধ্যে অফিস করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পাশাপাশি পরিষদে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও রয়েছেন দুর্ঘটনার আশঙ্কায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বি.এ ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। নির্মাণকাজ চলাকালীন এবং উদ্বোধনের সময় সারিকাইত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফিরোজ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে এবং সৌহার্দ্য কর্মসূচির আওতায় ইউএসএআইডি (USAID) ও কেয়ার (CARE)-এর অর্থায়নে ভবনটি নির্মিত হয়। উদ্বোধনের মাত্র ১৬ বছরের মাথায় ভবনটির এমন ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছানো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের দরবার কক্ষের অবস্থা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। কক্ষটির ছাদ থেকে বড় বড় পলেস্তারা খসে পড়ছে। এ অবস্থায় সেখানে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ দরবার কক্ষে গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সেখানে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে, ফলে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন বিচারপ্রার্থী ও সেবাপ্রত্যাশীরা।

পরিষদ ভবনটি স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র। জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা গ্রহণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রতিদিনই মানুষকে এ ভবনে আসতে হয়। কিন্তু ভবনের এমন অবস্থা স্বাভাবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

জানা গেছে, ভবনটির নির্মাণকাজের দায়িত্বে ছিলেন ঠিকাদার মনির তালুকদার। নির্মাণকাজ শুরুর ১৮ বছরের মধ্যে এবং উদ্বোধনের ১৬ বছরের মাথায় ভবনটির এমন অবনতি কেন হলো, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। নির্মাণে ব্যবহৃত সামগ্রীর মান, কাজের গুণগত মান কিংবা পরবর্তী সময়ে রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি—কোন বিষয়টি এর জন্য দায়ী, তা নির্ধারণে প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারিগরি পরীক্ষা ও তদন্ত।

সারিকাইত ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাবেদ হোসাইন বলেন, ঝুঁকি নিয়েই প্রতিনিয়ত তাঁদের অফিসের কাজ করতে হচ্ছে। ভবনটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, ভূমিকম্প কিংবা বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগ দেখা দিলে ভবনটি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার পরিবর্তে উল্টো ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

তিনি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ভবনটির কারিগরি পরিদর্শন, ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করার প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবনটির দ্রুত কারিগরি মূল্যায়ন জরুরি। পরিদর্শনে ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী বা বিপজ্জনক বলে প্রতীয়মান হলে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ, ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষের ব্যবহার বন্ধ এবং বিকল্প স্থানে দাপ্তরিক ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভবনটির নির্মাণসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করে অবনতির প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করাও জরুরি।

সারিকাইত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে—এমনটাই আশা করছেন তাঁরা।


দৈনিক পরিবর্তন সংবাদ

উপদেষ্টা সম্পাদক: গোলাম আকবর খন্দকার (সাবেক এমপি)
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: লেঃ কর্নেল এ কে এম রশিদুন্নবী,পিএসসি ( অবঃ)
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শাহাদাৎ হোসেন

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত