কোরবানির ঈদ ঘিরে দেশজুড়ে পশু প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। সরকারি হিসাবে, এবার কোরবানির জন্য প্রস্তুত পশুর সংখ্যা চাহিদার তুলনায় বেশি হলেও স্বস্তিতে নেই দেশীয় খামারিরা। তাঁদের আশঙ্কা, সীমান্ত দিয়ে ভারত ও মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ বাড়লে বাজারে দামে ধস নামতে পারে।
খামারিদের অভিযোগ, গোখাদ্য, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও পরিচর্যা খরচ বেড়ে যাওয়ায় এমনিতেই উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে। এর মধ্যে বিদেশি গরু কম দামে বাজারে এলে দেশীয় খামারিরা বড় ধরনের লোকসানে পড়তে পারেন।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় এখনও চোরাকারবারি চক্র সক্রিয় রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন সময় গরুর চালান জব্দ করলেও বাস্তবে অবৈধ পশু প্রবেশের পরিমাণ আরও বেশি বলে দাবি করছেন খামারিরা।
সুনামগঞ্জ, সিলেট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় গরু বেচাকেনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে সীমান্ত পেরিয়ে আনা গরু স্থানীয় খামারে রেখে পরে দেশি পশু হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছে।
খামারিদের অভিযোগ, কম দামে পাওয়া যায় বলে অনেক ব্যবসায়ী ভারতীয় গরুর প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এতে দেশীয় পশুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই এসব পশু বাজারে প্রবেশ করায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
ঢাকার কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার খামারিরা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পশু পালনের খরচ বেড়েছে। শেষ সময়ে বিদেশি গরু ঢুকলে বাজার ভেঙে যেতে পারে এবং উৎপাদন খরচ তোলা কঠিন হয়ে পড়বে।
তবে সরকার বলছে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোরবানির বাজার সুরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সতর্ক রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে যখন চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে, তখন সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গরু প্রবেশ বন্ধ করা না গেলে দেশীয় খামারশিল্প বড় ধাক্কায় পড়তে পারে।

আপনার মতামত লিখুন :