ঢাকা রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ‘বিস্ময়কর অর্থনৈতিক অগ্রগতির’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: ট্রাম্প

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:০৪ দুপুর

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির মুদ্রাস্ফীতি কমেছে, আয় ও বিনিয়োগ বেড়েছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আগে খুব কম দেশই দেখেছে।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। বিশ্ব নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি তার সরকারের এক বছরের অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও নীতির ফলাফল তুলে ধরেন।

ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসন কর কমানোর পাশাপাশি বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছে, যার ফলে দেশীয় শিল্প ও উৎপাদন খাত শক্তিশালী হয়েছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা নির্মাণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই বাণিজ্য ঘাটতি বড় আকারে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

ভাষণের শুরুতেই ইউরোপের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, অতিরিক্ত সরকারি ব্যয়, নিয়ন্ত্রণহীন অভিবাসন এবং বিদেশি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে ইউরোপ সঠিক পথে এগোচ্ছে না।

ইউরোপের অভিবাসন সংকট প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ভিন্ন সংস্কৃতির বিপুল জনগোষ্ঠীর আগমনে অনেক অঞ্চল আগের চেহারা হারিয়েছে। তার মতে, এর ফলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

পরিবেশ সুরক্ষায় নেওয়া ‘গ্রিন নিউ ডিল’ নীতির কঠোর সমালোচনা করে ট্রাম্প একে আবারও ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতারণা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জ্বালানি খাত থেকে আয় বাড়ানো উচিত, লোকসানের দিকে ঠেলে দেওয়া নয়।

যুক্তরাজ্যের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, দেশটি বিপুল জ্বালানি সম্পদের ওপর বসে থেকেও উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে এবং তার বিশ্বাস, উভয় পক্ষই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী।

এদিকে গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে নিজের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

এই ভাষণের সময় দাভোসে ট্রাম্পের অভিবাসন ও পরিবেশ নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, পাঁচ দিনের সম্মেলনে ট্রাম্প একাধিক বিশ্ব নেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেবেন।

Link copied!