ঢাকা সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

মক ভোটিংয়ে মূল্যায়ন শেষে বাড়তে পারে ভোটকেন্দ্র-বুথ সংখ্যা: সিইসি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ০৩:২৫ দুপুর

ছবি: সংগ্রহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার দেশজুড়ে ৪২ হাজার ৫০০টির বেশি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এই সংখ্যা যথেষ্ট হবে কিনা, কিংবা আরও বুথ বা কেন্দ্র যোগ করার প্রয়োজন পড়বে কিনা—সবকিছুই মক ভোটিংয়ের রিয়েল-টাইম তথ্য বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শনিবার (২৯ নভেম্বর) আয়োজিত মক ভোটিংয়ের কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে গণভোট আয়োজন—দুটি বৃহৎ প্রক্রিয়া হওয়ায় সময় ব্যবস্থাপনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সাধারণ ভোটের পাশাপাশি গণভোট সম্পন্ন করতে ভোটার প্রতি কত সময় লাগবে, সেটি যাচাই করতেই মক ভোটিং করা হচ্ছে। তিনি জানান, সময় ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করেই বাড়তি বুথ বা কেন্দ্র যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নতুন বুথ যুক্ত করা মানে অতিরিক্ত কর্মী, সরঞ্জাম ও ব্যবস্থাপনা—এসবই বাস্তব পর্যবেক্ষণ ছাড়া নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

সাম্প্রতিক মক ভোটিংয়ে ভোটারদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাওয়ার বিষয়ে সিইসি বলেন, এটি মূল্যায়নেরই অংশ। কোথায় ত্রুটি রয়েছে, কোথায় পরিকল্পনায় ঘাটতি আছে—এসব বিষয় শনাক্ত করে দ্রুত সংশোধন করা হবে। মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানো নয়, বরং ভোটের সময় কমিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাই ইসির লক্ষ্য। প্রয়োজনে বুথ বাড়িয়ে সময় কমানো হবে, শুধু খরচ বাঁচানোর জন্য কেন্দ্র কমানোর ইচ্ছা নেই।

গণভোট নিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্তি আছে কিনা—এমন প্রশ্নে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, গণভোট বিষয়ক প্রচারণা এখনো শুরু হয়নি। সরকার এবং ইসি যৌথভাবে শিগগিরই ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম শুরু করবে। গণভোট আইনগত অনুমোদন পাওয়ার পরই কমিশন বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কাজে নেমেছে। গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীলভাবে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি এখন অনেকটাই উন্নত। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে কমিশন। বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ঘটলেও সামগ্রিক ভোটের পরিবেশ নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই তফসিল প্রকাশ হতে পারে। নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সব প্রস্তুতিই প্রায় শেষের পথে।

মক ভোটিং আয়োজনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এটি কেবল ভোটের অনুশীলন নয়—বরং পোলিং সেন্টারের পরিবেশ, ভোটারদের কিউ ম্যানেজমেন্ট, কর্মকর্তাদের অবস্থান, সাংবাদিকদের কাজসহ পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়া বাস্তবে কীভাবে পরিচালিত হবে তা আগেভাগে যাচাই করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

Link copied!