প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
এআইয়ে বদলাচ্ছে কর্মক্ষেত্র, কী বলছে মেটলাইফের গবেষণা
মুন্নি আক্তার, সম্পাদকীয় বিভাগ ||
দ্রুত পরিবর্তনশীল কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের মানসিক চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। দেশের বেসরকারি খাতের ৫৫ শতাংশের বেশি কর্মী বর্তমানে বিভিন্ন কাজে এআই ব্যবহার করছেন। তাঁদের মধ্যে ৯১ শতাংশই মনে করেন, এআই তাঁদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।বহুজাতিক বিমা প্রতিষ্ঠান মেটলাইফ বাংলাদেশের সর্বশেষ ‘এমপ্লয়ি বেনিফিট ট্রেন্ডস স্টাডি (ইবিটিএস) ২০২৬’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।রোববার ( ১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে মেটলাইফ বাংলাদেশের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড প্রোডাক্ট নওফেল আনোয়ার এবং হেড অব কমিউনিকেশনস সাইফুর রহমানসহ অন্যরা।এআই ব্যবহারে কমছে কাজের চাপচলতি বছরের আগস্টে পরিচালিত এ জরিপে বিভিন্ন খাতের মোট ৭০৯ জন অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ৫৮৩ জন পূর্ণকালীন কর্মী এবং ১২৬ জন নিয়োগকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সুবিধাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী। তৈরি পোশাক, এনজিও, ব্যাংক, টেলিকম, এফএমসিজি ও খুচরা বিক্রিসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।জরিপে দেখা গেছে, এআই ব্যবহারকারী কর্মীদের ৫৪ শতাংশ মনে করেন, এআই তাঁদের কাজসংক্রান্ত মানসিক চাপ কমাতে সরাসরি সহায়তা করছে। প্রায় ৪৮ শতাংশের মতে, এআই ব্যবহারে সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বাড়ছে।এ ছাড়া ৪৬ শতাংশ কর্মী মনে করেন, কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার তাঁদের অতিরিক্ত কাজের চাপ ও হতাশা থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করছে। প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, এআইয়ের কারণে গতানুগতিক কাজের চাপ কমিয়ে সৃজনশীল ও অর্থবহ কাজে বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে ৩৪ শতাংশের মতে, এটি মানসিক ক্লান্তি কমানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।কর্মীদের মধ্যে এআই ব্যবহারের প্রবণতা বাড়লেও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এর ব্যবহার এখনো তুলনামূলক সীমিত। জরিপে অংশ নেওয়া কর্মীদের ৮৪ শতাংশ দৈনন্দিন কাজে এআই ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে নিয়োগকর্তাদের মধ্যে মাত্র ৫৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান কর্মীদের দৈনন্দিন কাজে এআই ব্যবহারে উৎসাহ বা সুযোগ দিচ্ছে।তবে ভবিষ্যতে এ চিত্র পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো এআই ব্যবহার শুরু করেনি, তাদের ৬২ শতাংশ আগামী এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এআই টুলস চালুর পরিকল্পনা করছে।কর্মীদের প্রত্যাশা ‘কেয়ার কালচার’প্রতিবেদনে কর্মক্ষেত্রে সহানুভূতিশীল ও যত্নশীল পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা নিয়োগকর্তা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সহানুভূতি ও যত্ন পান, সেসব প্রতিষ্ঠানে চাকরির সন্তুষ্টির হার ৯২ শতাংশ পর্যন্ত।মেটলাইফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কর্মীদের সামগ্রিক চাকরির সন্তুষ্টির হার বেড়ে ৮৩ শতাংশ হয়েছে। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৭৮ শতাংশ।বিমাসুবিধায় কর্মীদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধানজীবনবিমা, মৃত্যুবিমা, স্থায়ী অক্ষমতা ও গুরুতর অসুস্থতার মতো সুরক্ষামূলক সুবিধা নিয়েও কর্মীদের প্রত্যাশা ও প্রতিষ্ঠানের বাস্তব উদ্যোগের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে।জরিপে অংশ নেওয়া ৭৩ শতাংশ কর্মী জীবনবিমাকে অত্যন্ত জরুরি মনে করলেও মাত্র ৩৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে এ সুবিধা চালু রয়েছে। একইভাবে স্থায়ী অক্ষমতা ও গুরুতর অসুস্থতার বিমা সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ঘাটতি দেখা গেছে।মেটলাইফ বাংলাদেশের হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড প্রোডাক্ট নওফেল আনোয়ার বলেন, করোনার পর থেকে মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ ও সচেতনতা বেড়েছে। ডেঙ্গু, কিডনি রোগ, হৃদ্রোগ ও ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষাসংক্রান্ত বাড়তি সুবিধা প্রত্যাশা করেন। তাঁর মতে, কর্মীরা এ ধরনের সুবিধা যত বেশি পাবেন, প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁদের আনুগত্যও তত বাড়বে।পরিবর্তন সংবাদ/এসআর
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত