প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
পোশাকশ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠন
মুন্নি আক্তার, সম্পাদকীয় বিভাগ ||
পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। রোববার (১ নভেম্বর) শ্রম মন্ত্রণালয় পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বোর্ড পুনর্গঠন এবং মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি নিয়োগের ঘোষণা দেয়।ছয় সদস্যের এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান।বোর্ডে যারা দায়িত্ব পেয়েছেনপ্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মালিকপক্ষের স্থায়ী সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের স্থায়ী সদস্য হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন। নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।অন্যদিকে, তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য গঠিত মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।কীভাবে নির্ধারিত হবে নতুন মজুরিপ্রজ্ঞাপনে মজুরি নির্ধারণের আলোচনা শেষ করার নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। তবে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী, কোনো শিল্প খাতের মজুরি পুনর্নির্ধারণের নির্দেশ পাওয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামোর সুপারিশ করার বিধান রয়েছে। প্রয়োজনে বোর্ডের অনুরোধে সময় বাড়ানো যেতে পারে।সাধারণত বোর্ডের চেয়ারম্যান সভা আহ্বান করে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে মজুরি প্রস্তাব চান। এরপর প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা, প্রয়োজনে শিল্পাঞ্চল পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত গ্রহণ করা হয়। আলোচনা শেষে নতুন মজুরি কাঠামোর খসড়া তৈরি করে তা শ্রম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন ও প্রজ্ঞাপন জারির পর নতুন মজুরি কার্যকর হয়।সর্বশেষ ২০২৩ সালে বেড়েছিল মজুরিতৈরি পোশাকশিল্পে সর্বশেষ নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছিল ২০২৩ সালে। ওই বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ছয়টি সভা শেষে বোর্ড শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করে। পরে ডিসেম্বরে সরকার চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।এর আগে ২০১৮ সালে পোশাকশ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে মূল মজুরি ছিল ৪ হাজার ১০০ টাকা।বর্তমান সরকার শ্রম আইন সংশোধন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়কাল পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করেছে। ফলে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের সময় নিয়ে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল।দ্রুত মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করার দাবিশ্রমিক সংগঠন ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করতে হলে মে মাসেই বোর্ড গঠন করা প্রয়োজন ছিল। বিলম্বের কারণে শ্রমিকদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তবে বোর্ড গঠনে দেরি হলেও আগামী মাসের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়া আইন ও বিধিমালায় স্পষ্ট করা আছে। তবে নতুন মজুরি বাস্তবায়নের জন্য মালিকপক্ষকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে—এ বিষয়টিও স্বীকার করেন তিনি।অন্যদিকে, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনে সরকারের বিলম্বের কারণে শ্রমিকদের একটি অংশ আন্দোলনে নেমেছেন। এখন দ্রুত আলোচনা করে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করাই তাদের দাবি।১৯৯৪ সালে প্রথম মজুরি বোর্ড গঠনতৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য ১৯৯৪ সালে প্রথম নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। ওই সময় নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯৩০ টাকা। পরে ২০০৬ সালে তা বাড়িয়ে ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়।এরপর ২০১০ সালে ৩ হাজার টাকা, ২০১৩ সালে ৫ হাজার ৩০০ টাকা এবং ২০১৮ সালে ৮ হাজার টাকা নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ ২০২৩ সালে তা বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়।নতুন বোর্ডের আলোচনার ওপরই নির্ভর করছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের পরবর্তী মজুরি কাঠামো।পরিবর্তন সংবাদ/এসআর
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত