প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬
সাইবার হামলার শঙ্কায় বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট
মুন্নি আক্তার, সম্পাদকীয় বিভাগ ||
সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষায় দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ওয়েবসাইটটি বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পর এটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিশ্বব্যাপী সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকি বিশ্লেষণ শেষে ওয়েবসাইটটি চালু করা হবে।জরুরি নিরাপত্তাঝুঁকিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকবাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, জরুরি নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ রয়েছে। এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদরা।একই নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে পিএইচপিভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সাইবার হামলার আশঙ্কা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা পর্যালোচনা করছে।যেভাবে হামলা চালাতে পারে হ্যাকাররাআন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিএইচপির শনাক্ত হওয়া ত্রুটিগুলো কাজে লাগিয়ে হামলাকারীরা পাসওয়ার্ড ছাড়াই দূর থেকে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা কার্যকর করতে পারে। এতে সার্ভারের ফাইল, ডেটাবেজ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।এ ধরনের দুর্বলতা কাজে লাগানো হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের গোপনীয়তা ও ডিজিটাল সেবার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।এ কারণে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ডিজিটাল সেবায়ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সব পিএইচপিভিত্তিক ওয়েবসাইট ঝুঁকিতে নয়তবে পিএইচপি ব্যবহার করা সব ওয়েবসাইটই যে এই ত্রুটির কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে, তা নয়। ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত পিএইচপির সংস্করণ, নিরাপত্তা হালনাগাদ এবং সার্ভারের সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে।সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত সফটওয়্যার হালনাগাদ, সার্ভারের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী সাময়িকভাবে সেবা বন্ধ রাখাও সম্ভাব্য ক্ষতি এড়ানোর একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হতে পারে।সরকারি ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা যাচাইসরকারের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্কের আওতাধীন প্রায় ৩৬ হাজার ৫০০টি ওয়েবসাইট পিএইচপিতে তৈরি নয়। ফলে সেগুলো এই নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে সরাসরি ঝুঁকিতে পড়ার কথা নয়।তবে অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা যাচাই করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।বিজিডি ই-গভ সার্টের সতর্কতাসরকারের সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্ভারে পিএইচপির ব্যবহার ও সংস্করণ শনাক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা হালনাগাদ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে।তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ করা সম্ভব না হলে সার্ভারে প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং অননুমোদিত সংযোগ পর্যবেক্ষণের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপত্তা দুর্বলতা দূর করে ডিজিটাল সেবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রয়োজনীয় যাচাই ও সুরক্ষাব্যবস্থা সম্পন্ন হওয়ার পর ওয়েবসাইটগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।পরিবর্তন সংবাদ/এসআর
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত