প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬
বেহাল গলাচিপা-কলাগাছিয়া সড়ক, দুর্ভোগে কয়েক উপজেলার মানুষ
মুন্নি আক্তার, সম্পাদকীয় বিভাগ ||
পটুয়াখালীর গলাচিপা সদর থেকে কলাগাছিয়া গ্রোথ সেন্টার পর্যন্ত ২১ দশমিক ৮ কিলোমিটার সড়কের বেশির ভাগ অংশই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। কোথাও উঠে গেছে পিচঢালাই, কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে জমে হাঁটুপানি। কাদা ও বালুর কারণে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। এতে প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রী, চালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে গলাচিপা, রাঙ্গাবালী ও দশমিনা উপজেলার মানুষ জেলা শহর পটুয়াখালীতে যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কারকাজ চললেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, সংস্কারকাজের ধীরগতির কারণে দুর্ভোগ কমার বদলে দিন দিন বাড়ছে।সংস্কারকাজে ধীরগতি, বাড়ছে ভোগান্তিস্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটির ছয় কিলোমিটার অংশের সংস্কারকাজ গত বছর শুরু হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত দুই পাশে ইটের গাঁথুনি দেওয়া ছাড়া উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে কাজ থেমে থাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে সড়কটি।সড়কের কোথাও পিচঢালাই উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। আবার কোথাও কাদা ও বালু জমে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এসব গর্তে পানি জমে থাকায় গভীরতা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে যানবাহন নিয়ে চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।শিক্ষার্থী ও রোগীদের দুর্ভোগ বেশিগলাচিপা সদর থেকে কলাগাছিয়া গ্রোথ সেন্টার পর্যন্ত সড়কটি কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। ডাকুয়া, চিকনিকান্দি, কলাগাছিয়া, বকুলবাড়িয়া ও গজালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা নিয়মিত এ সড়ক ব্যবহার করেন। এসব এলাকায় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় প্রতিদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হয়।কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে তাঁদের পড়তে হচ্ছে নানা ভোগান্তিতে। বৃষ্টির দিনে কাদা ও পানির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত আরও কঠিন হয়ে ওঠে। পাশাপাশি অসুস্থ রোগী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জেলা শহরে নেওয়ার ক্ষেত্রেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্বজনদের।স্থানীয়দের মতে, সড়কটি শুধু দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য নয়, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করা প্রয়োজন।দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াতখারিজ্জমা ডিগ্রি কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষক হুমায়ুন কবির বলেন, গলাচিপা থেকে তাঁকে প্রতিদিন প্রায় ২০ কিলোমিটার যাতায়াত করতে হয়। সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে তাঁকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে সড়কটি দিয়ে চলাচল আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। তাঁদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে।পাথরসংকটে আটকে কার্পেটিংসংস্কারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে ঠিকাদারের প্রতিনিধি আবু বকর জানিয়েছেন, সড়কে কার্পেটিং করার জন্য প্রয়োজনীয় পাথর পাওয়া যাচ্ছে না। পাথরের সরবরাহ নিশ্চিত হলে কাজ শুরু করা হবে।তবে প্রয়োজনীয় উপকরণের সংকটের কারণে কাজ কত দ্রুত এগোবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজের অপেক্ষায় থাকা স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন।আরও সাত কিলোমিটার সংস্কারে দরপত্র শিগগিরগলাচিপা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, সড়কটির ছয় কিলোমিটার অংশের সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া আরও সাত কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে। বাকি অংশের কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।অন্যদিকে, পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী অলিয়ার রহমান জানিয়েছেন, বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় সড়কটির সংস্কারকাজ চলছে। ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে পুরো কাজ শেষ করার আশা করছেন তাঁরা।তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে সংস্কারকাজের গতি বাড়াবে। এতে তিন উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং সড়কটিতে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ তৈরি হবে।পরিবর্তন সংবাদ/এসআর
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত