মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিতে সম্মত হয়েছে আরও সাতটি দেশ। সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও কাতার এই উদ্যোগে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। বুধবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে মুসলিমপ্রধান এসব দেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এই ঘোষণার মাধ্যমে বোর্ড অব পিসে মুসলিম বিশ্বের সম্পৃক্ততা আরও বিস্তৃত হলো। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা জোরদার এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা এই উদ্যোগকে সমর্থন করছে। যদিও বোর্ডের প্রস্তাবিত কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও বোর্ড অব পিসে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তারা এখনও পর্যালোচনা করছে। পুতিন বলেছেন, উদ্যোগটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক হলেও রাশিয়া প্রয়োজনে এক বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
প্রথমদিকে এই বোর্ডকে গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ বন্ধ এবং যুদ্ধপরবর্তী পুনর্গঠন তদারকির একটি কাঠামো হিসেবে দেখা হলেও প্রস্তাবিত সনদে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র বা ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক অধিকারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। ফলে অনেক বিশ্লেষকের আশঙ্কা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গাজা ইস্যুতে জাতিসংঘের ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও ভিয়েতনামসহ কয়েকটি দেশ বোর্ড অব পিসে যোগ দিয়েছে। ইসরায়েলও আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। তবে কানাডা ও যুক্তরাজ্য এখনো তাদের চূড়ান্ত অবস্থান জানায়নি। অন্যদিকে, স্লোভেনিয়া এই উদ্যোগে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছে, এটি বিদ্যমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।
গাজা সংকট ঘিরে ঘোষিত শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। যুদ্ধবিরতির মধ্যেও বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় মানবিক সংকট এখনো গভীরভাবে রয়ে গেছে।

আপনার মতামত লিখুন :