ঢাকা রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ঢাকার চার আসনে দলীয় প্রধানদের মর্যাদার লড়াই

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:৪১ দুপুর

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণত বড় রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা ঢাকার আসনে প্রার্থী হতে অনাগ্রহী থাকেন। নিরাপদ বিজয়ের কথা মাথায় রেখে অধিকাংশ সময় তারা নিজ নিজ এলাকা কিংবা জন্মস্থানের আসনকে বেছে নেন। অতীতে ঢাকার আসনে দলীয় প্রধানদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সংখ্যা ছিল সীমিত, আর সেসব নির্বাচনে পরাজয়ের ঘটনাও রয়েছে। তবে এবার সেই চিত্র বদলেছে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকার চারটি আসনে চারটি রাজনৈতিক দলের প্রধান সরাসরি ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন। এতে রাজধানীর এসব আসন ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও খেলাফত মজলিস—এই চার দলের শীর্ষ নেতাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঘিরে ঢাকার রাজনীতি এখন ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’তে পরিণত হয়েছে।

ঢাকা-১৭ আসন থেকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচন করছেন। প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই এই এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রচারণা জোরদার হয়েছে। এর আগে এই আসনে বিএনপি জোটের হয়ে অন্য প্রার্থী মাঠে থাকলেও তারেক রহমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর সমীকরণ বদলে যায়। এই আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান, যিনি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন।

ঢাকা-১৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি এই এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। অতীতে এই আসন থেকেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছিলেন। এবার নিজ দলের প্রতীক নিয়ে নতুন করে ভোটের মাঠে নামায় এই আসনের লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল ইসলাম মিল্টন।

ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নির্বাচন করছেন। শুরুতে প্রচারণা তুলনামূলক কম থাকলেও রাজনৈতিক জোটগত সমর্থন পাওয়ার পর তার অবস্থান শক্ত হয়েছে। জামায়াতের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক জনশক্তি এই আসনে তার পক্ষে মাঠে নামায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমে উঠেছে। এই আসনে তার প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ড. এম এ কাইয়ুম।

ঢাকা-১৩ আসনে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে জোটগত সমঝোতার কারণে একাধিক দল তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করেছে। ফলে তার নির্বাচনী অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এনডিএম-এর চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ।

ঢাকার আসনে দলীয় প্রধানদের হার-জয়ের অতীত ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়গুলোতে বড় দলের শীর্ষ নেতারা ঢাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে একাধিকবার পরাজয়ের মুখে পড়েছেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে জোটগত সমীকরণ ও ভোটের ঢেউ জয় নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার আসনে দলীয় প্রধানের জয় বা পরাজয় শুধু একটি আসনের ফল নয়, বরং তা সংশ্লিষ্ট দলের সামগ্রিক রাজনৈতিক ইমেজের ওপর প্রভাব ফেলে। সে কারণেই এবারের নির্বাচনে রাজধানীর এই চার আসন ঘিরে বাড়তি রাজনৈতিক উত্তেজনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ভোটের ফলাফল কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Link copied!