আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসংক্রান্ত গণভোটকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি যেন দেশের কোথাও কোনো ধরনের গলদ না থাকে এবং নির্বাচনটি ভবিষ্যতের জন্য আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হয়—সে লক্ষ্যেই সবাইকে কাজ করতে হবে।
সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকারের মূল দায়িত্ব হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া। এই নির্বাচন জাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং এটিকে সফলভাবে সম্পন্ন করাই হবে একটি ঐতিহাসিক অর্জন। নির্বাচনের দিন কোনো ঘাটতি বা বিশৃঙ্খলা যেন না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ মনোযোগী থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতির ধাপভিত্তিক পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে। আজকের দিনটি শুরু, আর ১২ ফেব্রুয়ারি হবে চূড়ান্ত পরীক্ষা। এই সময়জুড়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনাই হবে সবার জন্য সর্বোচ্চ নির্দেশ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কমান্ডের ভূমিকা পালন করবে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচনে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে বডি ক্যামেরা ও সিসিটিভি ব্যবহার করা হবে এবং কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়ে কোনো ধরনের ঘাটতি যেন না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এই নির্বাচন ঘিরে দেশি ও বিদেশি বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আগ্রহ রয়েছে। বিষয়টিকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন, ফলে আমাদেরও সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রস্তুতির আলোকে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোভাব নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রার্থীরা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে চলছেন এবং এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলেই তিনি আশা করছেন।
সভায় নির্বাচন কমিশন সচিব জানান, নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ২৬টি দেশের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় তিনশ সদস্যের একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে পারে বলেও জানানো হয়। নির্বাচনী প্রচারণা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে এবং সাইবার স্পেসে অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সভায় জানানো হয়, অতীতে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় জনমনে স্বস্তি নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীসহ সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তায় সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং প্রয়োজন হলে সশস্ত্র বাহিনী ভোটকেন্দ্র প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবে।

আপনার মতামত লিখুন :