যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। গাজা পুনর্গঠনকে সামনে রেখে গঠিত এই বোর্ডকে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হলেও, এর কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেক পর্যবেক্ষক। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বোর্ডটির কার্যক্রম কেবল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্বজুড়ে সংঘাতপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ঘোষণা অনুযায়ী, বোর্ড অব পিসের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবেও বোর্ডে আলাদা ভূমিকা রাখবেন। নির্বাহী বোর্ডের সদস্য বাছাইয়ের পূর্ণ ক্ষমতাও থাকবে তার হাতে। চেয়ারম্যান পদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়নি; ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে থাকলে বোর্ডের নেতৃত্বেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
বোর্ডের সদস্য রাষ্ট্র নির্বাচন ও সদস্যদের মেয়াদ নির্ধারণেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রভাব স্পষ্ট। সাধারণ সদস্যদের মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন বছর নির্ধারিত হলেও, প্রথম বছর এক বিলিয়ন ডলার অনুদান দিলে সেই সীমাবদ্ধতা কার্যকর হবে না। সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাধারণ ভোটের ব্যবস্থা থাকলেও কোনো পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন চেয়ারম্যান—যা কার্যত ট্রাম্পের একক প্রভাব নিশ্চিত করে।
নির্বাহী বোর্ডে ট্রাম্পের সঙ্গে রয়েছেন একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাদের মধ্যে আছেন সিনেটর মার্কো রুবিও, বিশেষ সমঝোতা পরামর্শক স্টিভ উইটকফ, জেরেড কুশনার, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, ব্যবসায়ী মার্ক রোয়ান, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকর্তা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল।
বোর্ডে অংশগ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র মিত্র ও প্রতিপক্ষ—উভয় পক্ষের দেশগুলোকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছে। চীন আমন্ত্রণ পেলেও জাতিসংঘকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার গুরুত্বের কথা তুলে ধরে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই দেশই আমন্ত্রিত হলেও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছে তারা।
ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশ বোর্ডে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। হাঙ্গেরি, ইসরায়েল ও আজারবাইজানের নেতারা অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতও বোর্ডে যুক্ত হচ্ছে। কানাডা অংশ নিলেও এক বিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়ে স্থায়ী সদস্য হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
ফ্রান্স বোর্ডে যোগ না দেওয়ার ঘোষণা দিলে ট্রাম্প ফরাসি ওয়াইনের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও যুক্তরাজ্যও রাশিয়ার সঙ্গে একই বোর্ডে থাকার বিষয়ে আপত্তি তুলেছেন। ঘোষণায় বলা হয়েছে, অন্তত তিনটি দেশের সম্মতি মিললেই বোর্ড অব পিস আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।

আপনার মতামত লিখুন :