ভারতে গিয়ে খেলতে অনিচ্ছুক থাকলে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বুধবার অনুষ্ঠিত আইসিসি বোর্ড সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে জানাতে বলা হয়েছে।
আইসিসির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ যদি ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে তাদের পরিবর্তে অন্য একটি দলকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সভায় এ বিষয়ে ভোটাভুটি হয়, যেখানে অধিকাংশ বোর্ড সদস্য বিকল্প দল রাখার পক্ষে মত দেন।
ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে বিসিবিকে আরও একদিন সময় দিয়েছে আইসিসি। ১৫ সদস্যের আইসিসি বোর্ডের মধ্যে কেবল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। বাকি বোর্ড সদস্যরা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতে খেলার পক্ষেই অবস্থান নেন।
এর আগে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ করেছিল। এ অবস্থানের সমর্থনে মঙ্গলবার আইসিসি ও বোর্ড সদস্যদের কাছে চিঠি পাঠায় পিসিবি। সেই প্রেক্ষাপটেই জরুরি বোর্ড সভা ডাকে আইসিসি।
বাংলাদেশ সরে দাঁড়ালে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘গ্রুপ সি’-তে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। যদিও স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপের মূল পর্বে সরাসরি জায়গা করে নিতে পারেনি। ইউরোপিয়ান বাছাইপর্বে তারা নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও জার্সির পেছনে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করে।
বাংলাদেশের এই কঠোর অবস্থানের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে নিরাপত্তা শঙ্কা। গত ৩ জানুয়ারি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সিদ্ধান্তে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এর পরদিন, ৪ জানুয়ারি সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী বিসিবি আইসিসিকে জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে ভারতে পাঠাতে তারা রাজি নয়।

আপনার মতামত লিখুন :