যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এখন সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড দখল বা অধিগ্রহণের বিষয়টি আর এড়ানোর সুযোগ নেই।
সোমবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ অবস্থান জানান। তিনি দাবি করেন, ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষ্য, ডেনমার্কের জনগণ ভালো হলেও তারা এই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলটি রক্ষা করতে পারছে না, এমনকি দেশটির শীর্ষ নেতারাও সেখানে নিয়মিত যান না।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই বাস্তবতায় গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ন্যাটো গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে ডেনমার্ককে সতর্ক করে আসছে। এ বিষয়ে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে তার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অপরিহার্য হয়ে উঠেছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান থেকে সরে আসার সুযোগ নেই।
আলোচনাকে আরও জোরালো করতে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে তাকে মার্কিন পতাকার সামনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে দেখা যায়। ওই পোস্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, ২০২৬ সালের মধ্যেই গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
এদিকে, গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে এনবিসি নিউজের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি শুধু বলেন, ‘নো কমেন্ট’। তবে তিনি আগেই ইউরোপীয় মিত্রদের সতর্ক করে বলেছেন, যারা গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করবে, তাদের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এরই মধ্যে ওই অঞ্চলে সীমিতসংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
অন্যদিকে, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই এই অঞ্চল বিক্রি বা হস্তান্তরের যেকোনো প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল সেখানকার জনগণের।

আপনার মতামত লিখুন :