বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারা অতীতে বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেনি, তারাই এখন বিএনপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। ধর্মকে ব্যবহার করে ভোটের রাজনীতি করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ধর্মের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যাবে না।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, বিএনপি সহনশীল রাজনীতিতে বিশ্বাস করে, তাই সবার প্রতি আহ্বান থাকবে—সিধা পথে রাজনীতি করুন, ধর্মকে অশান্তির হাতিয়ার বানাবেন না।
ধর্মের অপব্যবহারের উদাহরণ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একটি পক্ষ বলছে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিলে নাকি বেহেশত পাওয়া যাবে। তাহলে নামাজ-রোজা ও ধর্মীয় অনুশাসনের প্রয়োজন কোথায়—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি প্রকৃত ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাস করে এবং শহীদ জিয়াউর রহমানই সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ সংযোজন করেছিলেন। তাই অপপ্রচার করে বিএনপিকে দুর্বল করা যাবে না।
দলকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টার কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংস্কার ধারণার সূচনা বিএনপিই করেছে। ২০২২ সালে বিএনপিই প্রথম রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাব দেয় এবং সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। তবে ঐকমত্য কমিশন কিছু বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, অনেক বিষয় সংস্কারের নামে যুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো বিএনপি চায়নি। তারপরও বৃহত্তর স্বার্থে দলটি অনেক সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে। তিনি বলেন, যারা আজ সংস্কারের কথা বলছে, তাদের অনেকেই গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় বিশ্বাস করে না।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যাদের জনসমর্থন নেই, তারাই এখন নির্বাচন প্রতিহতের হুমকি দিচ্ছে। এই নির্বাচনেই প্রমাণ হবে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পথে এগোবে, নাকি উগ্রবাদীদের হাতে চলে যাবে। জনগণ ভোট দিলে বিএনপি সরকার গঠন করবে, না দিলে বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শহীদ জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও ভূখণ্ডের রাজনৈতিক পরিচয় সুদৃঢ় করেছিলেন। তার অবর্তমানে বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে তারেক রহমান সেই আদর্শ ও পতাকা বহন করে চলেছেন।
পাঁচ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন দেশে ভয়াবহ রক্তপাত হবে। সে সময় হাসপাতালে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার কাছে একটি বার্তা চাওয়া হয়েছিল, আর সেই বার্তাই পরিস্থিতি শান্ত করতে বড় ভূমিকা রাখে।
গত ১৫ বছরে বিএনপি নেতাকর্মীরা নির্যাতন, কারাবরণ ও নানা ত্যাগ স্বীকার করেছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এত কষ্টের পরও দলটি গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী নির্বাচনে জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনে সক্ষম হবে।
আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খানসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

আপনার মতামত লিখুন :