ঢাকা শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
আইপিএল ইস্যুতে মুখ খুললেন মোস্তাফিজ

কেকেআর থেকে বাদ পড়া নিয়ে আক্ষেপ, বললেন—‘ছেড়ে দিলে আর কী করার!’

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৩৬ বিকাল

ছবি: সংগৃহীত

আইপিএল ২০২৬ শুরুর আগেই কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার খবরে মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত সময় পার করছেন বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং মাঠের বাইরের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে আইপিএল থেকে ছিটকে যাওয়ায় নিজের হতাশা গোপন রাখতে পারেননি তিনি।

শনিবার এক দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় মোস্তাফিজ আক্ষেপমাখা কণ্ঠে বলেন, ‘ছেড়ে দিলে আর কী করার!’—এই একটি বাক্যই যেন তার ভেতরের হতাশা, ক্ষোভ আর অসহায়তার সবটুকু প্রকাশ করে দেয়।

রেকর্ড দামে দল পেলেও শেষ পর্যন্ত বাদ

গত ১৬ ডিসেম্বর আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত আইপিএল নিলামে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে ভেড়ায় কলকাতা নাইট রাইডার্স। এটি ছিল তার আইপিএল ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ মূল্য। তবে দল ঘোষণার পরপরই ভারতের কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ শুরু করে।

এই চাপের মুখে বিসিসিআই মোস্তাফিজকে কেকেআর স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয় বলে জানা যায়। শেষ পর্যন্ত সেই নির্দেশনা মেনেই শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দল থেকে বাদ দেয় কলকাতা কর্তৃপক্ষ।

ছন্দে থেকেও মাঠের বাইরে হেরে যাওয়া

খেলার দিক থেকে মোস্তাফিজ ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। সদ্য শেষ হওয়া আইএল টি-টোয়েন্টিতে ৮ ম্যাচে ১৫ উইকেট শিকার করে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। চলমান বিপিএলেও তিন ম্যাচে নিয়েছেন ছয়টি উইকেট।

সর্বশেষ ম্যাচে সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে মাত্র ২৪ রানে তিন উইকেট নিয়ে দলকে জয় এনে দেন এই বাঁহাতি পেসার। এমন পারফরম্যান্সের পরও মাঠের বাইরের ঘটনায় দল হারানো যেকোনো ক্রিকেটারের জন্যই মানসিকভাবে কঠিন—মোস্তাফিজও তার ব্যতিক্রম নন।

রংপুর রাইডার্সের পাশে দাঁড়ানো

এই কঠিন সময়ে মোস্তাফিজের পাশে দাঁড়িয়েছে তার বিপিএল দল রংপুর রাইডার্স। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এক আবেগঘন বার্তায় জানায়, ‘সুযোগ কেড়ে নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু সম্মান অর্জন করতে হয় মাঠেই।’

বার্তাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছ থেকে মোস্তাফিজের প্রতি সহানুভূতি আরও জোরালো হয়।

নীরবতাই যেন সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ

যখন ক্রিকেটীয় যোগ্যতার চেয়ে রাজনীতি বড় হয়ে ওঠে, তখন অনেক সময় একজন খেলোয়াড়ের নীরবতাই হয়ে দাঁড়ায় সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিবাদ। মোস্তাফিজের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই দেখা গেছে। মুখে খুব বেশি কিছু না বললেও তার একটি বাক্যই বলে দিয়েছে—এই বিদায় তার জন্য কতটা কষ্টের।

 

Link copied!