বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) মৌসুম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় দল, খেলোয়াড় ও সমীকরণ। তবে একটি বিষয় প্রায় অপরিবর্তিত—টাই ম্যাচের বিরলতা। বিপিএলের ১২ আসরের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ৪৭৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলেও টাই হয়েছে মাত্র তিনটি, যার প্রতিটিই গড়িয়েছে সুপার ওভারে।
সর্বশেষ নাটকীয় এই টাই ম্যাচটি দেখা গেছে সিলেটে, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও রংপুর রাইডার্সের মুখোমুখি লড়াইয়ে। প্রায় নিশ্চিত পরাজয়ের মুখ থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে রাজশাহী ম্যাচটি টাই করে এবং পরে সুপার ওভারে দাপুটে পারফরম্যান্সে হারিয়ে দেয় ফেভারিট রংপুরকে।
ম্যাচের এক পর্যায়ে সহজ জয়ই মনে হচ্ছিল রংপুরের জন্য। ১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শেষ ১৮ বলে তাদের প্রয়োজন ছিল মাত্র ২২ রান, হাতে ছিল আট উইকেট। শেষ ওভারে প্রয়োজন দাঁড়ায় সাত রান, উইকেটও ছিল সাতটি। এমন পরিস্থিতিতে হার কল্পনাও করা যায়নি।
তবে শেষ ওভারে নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। প্রথম বলে উইকেট পড়লেও দ্বিতীয় বলেই চার হাঁকান নুরুল হাসান সোহান। চার বলে তিন রান—জয় তখন সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু রিপন মন্ডলের নিখুঁত বোলিংয়ে তৃতীয় বলে রান হয়নি, চতুর্থ বলে আসে দুই রান। পঞ্চম বলে ক্যাচ তুলে দেন সোহান। শেষ বলে এক রানের সমীকরণে মাহমুদউল্লাহ ব্যর্থ হলে ম্যাচ গড়ায় টাইয়ে।
সুপার ওভারে আবারও নায়ক হন রিপন মন্ডল। দুটি ওয়াইড দেওয়ার পরও তার ওভার থেকে আসে মাত্র ছয় রান। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মুস্তাফিজুর রহমানের করা তিন বলেই রাজশাহীকে জয় এনে দেন তানজিদ হাসান।
এই ম্যাচের মাধ্যমে বিপিএলে ছয় বছর পর আবার সুপার ওভার দেখা গেল। এর আগে ২০২০ সালের ২ জানুয়ারি একই সিলেটেই কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ও সিলেট থান্ডারের ম্যাচ গড়িয়েছিল সুপার ওভারে। নাটকীয় সেই ম্যাচে শেষ ওভারের রোমাঞ্চ, রান আউট ও টানটান উত্তেজনার পর সুপার ওভারে জয় পায় সিলেট থান্ডার।
বিপিএলের প্রথম সুপার ওভারের সাক্ষী হয় মিরপুর, ২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি। খুলনা টাইটান্স ও চিটাগং ভাইকিংসের সেই ম্যাচেও শেষ ওভারের উত্তেজনা, রান আউট এবং পরে সুপার ওভারে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই উপভোগ করেন দর্শকরা। শেষ পর্যন্ত এক রানের ব্যবধানে জয় পায় চিটাগং ভাইকিংস।
সব মিলিয়ে বিপিএলের দীর্ঘ ইতিহাসে টাই ম্যাচ ও সুপার ওভার এখনো ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবেই রয়ে গেছে। আর যখনই এমন ম্যাচ আসে, তা নিঃসন্দেহে টুর্নামেন্টের স্মরণীয় মুহূর্তে পরিণত হয়।

আপনার মতামত লিখুন :