ঢাকা শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

মাহে রমজানে কী কী আমল করবেন?

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ মার্চ, ২০২৫, ০৭:৫৮ বিকাল

রমজান

রমজান এমন একটি মাস যে মাসে প্রতিটি মুমিনের জীবনে অতন্ত্য গুরুত্বগুর্ণ। এটি শুধু একটি মাস নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম ও রহমতের এক অপার সুযোগ। 

নানান গুরুত্বপূর্ণ হাদিসের আলোকে কিভাবে আমরা রমজান কাটাব তা তুলে ধরা হলো

১. রমজান মাসে রোজা রাখা : আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ বলেছেন : আদমসন্তানের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্যই; রোজা ব্যতীত। তা আমার জন্য, আমি নিজেই তার পুরস্কার দেব। আর রোজা পালনকারীদের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিসকের ঘ্রাণের চেয়ে অধিক সুগন্ধযুক্ত। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯২৭)

২. তারাবি পড়া : আবদুল্লাহ ইবনে আবি কাইস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেন, উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেছেন, তুমি রাতের নামাজ (তারাবি) ছেড়ে দেবে না।

কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো একে পরিত্যাগ করতেন না। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  অসুস্থ হলে কিংবা অলসতা বোধ করলে বসে নামাজ আদায় করতেন। (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ১৩০৭)

৩.নিয়মিত দান-সদকা করা : আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতিদিন সকালে দুজন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাঁদের একজন বলেন, হে আল্লাহ! দাতাকে তার দানের উত্তম প্রতিদান দিন, আর অন্যজন বলেন, হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস করে দিন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৪৪২)

৪. পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা : আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে তোমরা কোরআন মজিদ পাঠ করো। কেননা কিয়ামতের দিন কোরআন তার পাঠকের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে আগমন করবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৮০৪)

৫. উত্তম আচার-ব্যবহার করা : উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই মুমিন ব্যক্তি তার ভালো চরিত্রের মাধ্যমে (দিনের) রোজা পালনকারী ও (রাতের) তাহাজ্জুদ আদায়কারীর সমান মর্যাদা লাভ করতে পারে। (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৪৭৯৮)

৬. আত্মশুদ্ধি : নোমান ইবনে বশির রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, জেনে রাখো, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরা আছে, তা যখন ঠিক হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন ঠিক হয়ে যায়। আর তা যখন খারাপ হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন খারাপ হয়ে যায়। জেনে রাখো, সেই গোশতের টুকরাটি হলো কলব (অন্তর)। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫২)

৭. বেশি বেশি নফল ইবাদত করা : আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলির সঙ্গে দুশমনি রাখবে, আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করব। আমি যা কিছু আমার বান্দার ওপর ফরজ করেছি, তা দ্বারা কেউ আমার নৈকট্য লাভ করবে না। আমার বান্দা সর্বদা নফল ইবাদত দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৫০২)

৮. ক্রয়-বিক্রয়ে সহনশীল হওয়া : জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ এমন ব্যক্তির প্রতি রহমত বর্ষণ করেন, যে নম্রতার সঙ্গে ক্রয়-বিক্রয় করে এবং পাওনা ফিরিয়ে দেয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০৭৬)

আল্লাহ তাআলা সবাইকে উল্লিখিত বিষয়গুলো মান্য করে রমজান মাস কাটানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।

Link copied!